সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনা: বিধানসভা ভোটের আগে ভূতুড়ে ভোটার বিতর্কে শাসক-বিরোধী সংঘাত চরমে উঠেছে। এর মধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের একটি বুথে খোঁজ মিলল ২৬ জন মৃত ভোটার।

তাঁরা কেউ বেঁচে নেই। অথচ ভোটমুখী বাংলায় জীবিতদের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে তাঁদের নাম। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের ২২৫ নম্বর বুথে মোট ভোটার ৯৮৪ জন। এদের মধ্যে ২৬ জনই মৃত ভোটার। পরিবার জানিয়েছে, কেউ মারা গেছেন ৬ বছর, কেউ বছর দুয়েক আগে। নিয়ম মেনে ডেথ সার্টিফিকেটও তুলে নিয়েছে পরিবার। কিন্তু মৃত ভোটাররা বহাল তবিয়তে রয়েছেন ভোটার তালিকায়। একজনের শাশুড়ি মারা গেছেন ৬ বছর আগে। ভোটার তালিকায় এখনও তাঁর নাম রয়েছে। মৃত অঞ্জনা গোস্বামীর পুত্রবধূ তোতা গোস্বামী বলেন, "২১ অগাস্ট আসলে ৬ বছর হবে। কী বলব বলুন। জানি না।''  আরেকজনের ঠাকুমার মৃত্যু হয়েছে একবছর আগে। ভোটার তালিকায় এখনও নাম রয়েছে শুনে অবাক হয়েছেন নাতি। মৃত পূর্ণিমা হালদারের নাতি সানি হালদার বলেন, "ভোটার লিস্ট তো সেভাবে দেখা হয় না। ডেথ সার্টিফিকেট বেরিয়ে গেছে না থাকাটাই স্বাভাবিক।'' এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভোটের সময় এই মৃত ভোটাররা ভোটও দেন। পুরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা গৌরাঙ্গ পাল বলেন, "২২ সালের আগে মারা গেছে। অথচ পুরভোটে ভোট দিয়েছে। ২৪-এ লোকসভাতেও ভোট দিয়েছে। তাঁদের আত্মারা ভোট দিয়েছে এসে।'' বসিরহাট পুরসভার উপ পুরপ্রধান সুবীর সরকার বলেন, "এইরকম একাধিক বুথে আছে। আমরা BLO-কে বলেছি। ডেথ সার্টিফিকেট জমা করে...সেই নামগুলো অফিসগতভাবে জমা পড়লেও নির্বাচন কমিশনের গাফিলতি।''

এদিকে ব্যারাকপুর ২ নম্বর ব্লকে তৃণমূলের দখলে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েতে খোদ তৃণমূল সদস্যের বাড়িতেই খোঁজ মিলল ভূতুড়ে ভোটারের। বিজেপির অভিযোগ, বিলকান্দা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২২৭ নম্বর বুথে তৃণমূল সদস্য পরেশচন্দ্র শীলের পুত্রবধূর নামে ২টি ভোটার কার্ড রয়েছে। এপিক নম্বর আলাদা, এক জায়গায় ভোটারের নাম শতাব্দী শীল, আরেক জায়গায় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের পুত্রবধূর নাম শতাব্দী বিশ্বাস শীল। কিছুদিন আগে এই তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যই ভুয়ো ভোটারের অভিযোগে সরব হন। ওই ঘটনাকে সামনে রেখে শাসকদলকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, ভোটে জিততে তৃণমূল বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা এনেছে, নিজেদের বাড়ির লোকের নামে ৩-৪টি করে ভোটার কার্ড বানিয়েছে। প্রশ্নের মুখে বেকায়দায় পড়ে মেজাজ হারান তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য।