রাজা চট্টোপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি: চ্যাংমারির পর নাগরাকাটা, সামনে এল জলপাইগুড়ির আরও একটি চা বাগানের ছবি। পাহাড়ি নদীর জলের তোড়ে ভেঙে গেছে দেওয়াল। জল ঢুকে ৫ হাজার বস্তা চা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন, নাগরাকাটা কাণ্ডে নিন্দায় সরব রাজ্যপাল, পাল্টা 'মেরুদণ্ডহীন..' বলে কটাক্ষ কল্যাণের !
নাগরাকাটা চা বাগানের পাশেই লোহার সেতু জলের তোড়ে ভেঙে গেছে। শ্রমিক বস্তিতে একাধিক বাড়িতে ধস নেমেছে। ফের বৃষ্টি হলে ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নাগরাকাটা চা বাগানের প্রায় ৫০ হেক্টর জমি পলিমাটির চাদরে ঢাকা পড়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে ডুয়ার্সের প্রায় ৪০টি চা বাগান তছনছ হয়ে গেছে। প্রায় সাড়ে ন’শো হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে বন্যার জলে ধুয়ে গেছে প্রায় চারশো হেক্টর জমি। ক্ষতির পরিমাণ সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
ভয়াবহ দুর্যোগে তছনছ পাহাড় থেকে ডুয়ার্স। ভয়ঙ্কর ক্ষতির মুখে পড়েছে জলপাইগুড়ি অন্তত ৪০টি চা বাগান। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি, দাবি চা মালিকদের সংগঠন 'টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া'র। রাজ্যের মোট উৎপাদিত চায়ের ৬০ শতাংশেরও বেশি জোগান দেয় ডুয়ার্স। প্রায় সর্বস্ব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে নদী। কীভাবে রেহাই? পথ খুঁজছেন চা শ্রমিকরা।
জলপাইগুড়ি নাগরাকাটা ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ও চা শ্রমিক বলেন, কী করব, কোথায় যাব? সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে, কিচ্ছু বাকি নেই। শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল। ভয়াবহ দুর্যোগে তছনছ পাহাড় থেকে ডুয়ার্স। ভয়ঙ্কর ক্ষতির মুখে পড়েছে জলপাইগুড়ি অন্তত ৪০টি চা বাগান! স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ৯৫০ হেক্টর জমির অবস্থা এমন হয়েছে। প্রায় ধুয়ে মুছে সাফ ৪০০ হেক্টর জমি। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি, দাবি চা মালিকদের সংগঠন 'টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া'র।
এমনকী যে চেম্বারে চা পাতা রাখা হয় সেখানে জল ঢুকে পাতা কালো হয়ে গেছে। নাগরাকাটা চ্যাংমারি চা বাগান অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার বলেন , চা বাগানের ক্ষতি নিয়ে বলেছে। জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার মিলিয়ে বর্তমানে ডুয়ার্সে বড় চা বাগানের সংখ্যা ১৭২টি। মাঝারি চা বাগান মিলিয়ে এই সংখ্যা দু'শোরও বেশি। ক্ষুদ্র চা বাগানের সংখ্যা ডুয়ার্সে ৩০ হাজারেরও বেশি। রাজ্যের মোট উৎপাদিত চায়ের ৬০ শতাংশেরও বেশি জোগান দেয় ডুয়ার্স।
কার্যত একরাতের দুর্যোগেই ছবির মতো সুন্দর ডুয়ার্স যেন বদলে গেছে বিভীষিকায়!পাহাড়ি রাস্তা, সেতুর পাশাপাশি, রুদ্ররোষে তছনছ হয়ে গেছে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম মেরুদণ্ড চা শিল্প।নদীর জলে ভেঙেছে ব্রিজ। বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো হয়ে গেছে বামনডাঙা চা বাগান। এইভাবেই গাঠিয়া নদী স্পিড বোটে পারাপার করানো হচ্ছে। বামনডাঙা থেকে চালসা বা শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি যাওয়ার একমাত্র ভরসা।টানাটানি সেতু ধুয়ে মুছে সাফ। নদীবাঁধের ওপরে ছিল রাস্তা, সেটাও ধুয়ে গেছে। রাস্তা থেকে আড়াইতলা সমান নীচে কাজ চলছে।
হাড়ভাঙা খাটুনির যে বাড়ি ছিল মাথাগোঁজার ঠাঁই, শনিবার রাতের তাণ্ডবলীলা ভেঙেচুরে দিয়েছে সব!এই ছবি নাগরাকাটার টুন্ডু চা বাগানের।দোতলা বাড়ির একদিক ভেঙে পড়েছে!ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে বহু কাঁচা বাড়ি, কোথাও আবার দুমড়ে মুচড়ে গেছে টিনের ছাউনি।