কলকাতা: বিজেপি সাংসদ-বিধায়কের উপর হামলার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী, পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী। 'যথোপযুক্ত তদন্ত ছাড়াই জাতীয় বিপর্যয় নিয়ে রাজনীতি করছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এধরনের রাজনীতি করার চেষ্টা দুর্ভাগ্যজনক এবং উদ্বেগের। ঠিক যখন উত্তরবঙ্গের মানুষ বন্যা এবং ধসের সঙ্গে লড়াই করছেন। স্থানীয় প্রশাসন যখন দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করছেন, তখন কনভয় নিয়ে এলাকায়। পুলিশকে না জানিয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে হাজির বিজেপি নেতারা। কাউকে না জানিয়েই দুর্গত এলাকায় গিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা।'

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, পড়বে বাজ, ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া, দুর্যোগের মধ্যেই ফের বর্ষণের হলুদ সতর্কতা রাজ্যের ১৭ জেলায় !

Continues below advertisement

'তাহলে কীভাবে রাজ্য সরকার, পুলিশ কিংবা তৃণমূলকে দায়ী করা হচ্ছে?'তথ্যপ্রমাণ যাচাই না করেই তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারকে দায়ী করছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা শুধুমাত্র রাজনীতির লড়াই নয়, এটা সাংবিধানিক নীতির বিরোধী। বিজেপি বিধায়কের এলাকায় ঘটনা, তাও তৃণমূলকে দায়ী করা হচ্ছে? আমরাও সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করি, কিন্তু এটা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর সময়', প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণকে অপরিণত বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণে মুখ্যমন্ত্রী।'প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেশ গড়ার, ন্যারেটিভ তৈরি করা নয়',দুর্যোগের সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব মনে করিয়ে পাল্টা কড়া বিবৃতি মুখ্যমন্ত্রীর ।'পার্টি কর্মীদের উপর নয়, নির্বাচিত সরকারে আস্থা রাখুন। আইন আইনের পথে চলবে, দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না। আপনি বিজেপির নয়, দেশের প্রধানমন্ত্রী, দুঃসময়ে আমাদের এক হতে হবে', প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।

ধস বিধ্বস্ত নাগরাকাটা পরিদর্শনে গিয়ে মারধরের মুখে পড়েন এদিন বিজেপির সাংসদ ও বিধায়ক। মাথা ফেটে যায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুরপিছন থেকে বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। নাগরাকাটার বামনডাঙা যাওয়ার মুখে বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপি বিধায়ক, সাংসদ। শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের গাড়িতে পাথর, জুতো, লাঠি দিয়ে আঘাত চলে বলে অভিযোগ।বিক্ষোভের মুখে এরপর এলাকা ছাড়েন বিজেপি বিধায়ক-সাংসদরা। এই ঘটনার পর পিছনে তৃণমূল আছে, বলেই অভিযোগ বিজেপির। এদিন ঘটনার পর চালসা থেকে মাটিগাড়ার বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আহত খগেন মুর্মুকে। 

এরপরেই, প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'জনগণের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে দলীয় সহকর্মীদের উপর হামলা। যেভাবে হামলা, তা তৃণমূলের অসংবেদনশীল আচরণকেই প্রকাশ্যে এনেছে। এই হামলা দেখিয়ে দিয়েছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা অবস্থা কতটা শোচনীয়', নাগরাকাটা-হামলার তীব্র নিন্দা করে তৃণমূলকে আক্রমণে প্রধানমন্ত্রী। 'আশাকরি এই কঠিন পরিস্থিতিতে হিংসার বদলে জনসেবায় মন দেবে তৃণমূল। সন্ত্রাসে সামিল হওয়ার বদলে জনগণের কথা ভাববে পশ্চিমবঙ্গ সরকার', সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করে বিজেপি নেতা-কর্মীদের দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ। উত্তরবঙ্গের দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ নরেন্দ্র মোদির।