সুদীপ চক্রবর্তী, উত্তর দিনাজপুর : উলুবেড়িয়া হাসপাতাল, বীরভূমের মহম্মদ বাজারের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পর এবার উত্তর দিনাজপুর। মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীকে 'শাসানি' দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্সিং স্টাফকে 'ধমক' দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীকে শাসানির অভিযোগ তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানহাইয়ালাল আগরওয়ালের বিরুদ্ধে। চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে রোগীমৃত্যুর অভিযোগ পেয়ে হাসপাতালে এসে 'ধমক' কানহাইয়ালালের। যদিও তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানহাইয়ালাল আগরওয়ালের বিরুদ্ধে কোথাও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
জানা গিয়েছে, বছর ৫৬- র এক রোগী বুধবার ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি সুস্থ হয়ে গেলে তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়। এরপর সন্ধেবেলা ওই ব্যক্তি আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ফের আনা হয় হাসপাতালে। পরিবারের অভিযোগ, সেই সময় দীর্ঘক্ষণ রোগীকে দেখতে আসেননি কোনও নার্স কিংবা ডাক্তার। আশপাশে অনেক নার্স থাকলেও, তাঁদের ডাকার পর কেউই আসেননি বলে অভিযোগ পরিবারের। এরপরই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ এনেছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। সূত্রের খবর, এই ঘটনার পর হাসপাতালে আসেন তৃণমূল নেতা। তারপরই এক নার্সের সঙ্গে তিনি তুমুল বচসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, তিনি আঙুল উঁচিয়ে শাসানি দেন ওই নার্সকে। আরও অভিযোগ রীতিমতো ধমকে সুরে মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। এই ঘটনায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে কোথাও, কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
রাজ্যের একের পর এক সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঘটে চলেছে ভয়ঙ্কর ঘটনা
কয়েকদিন আগেই বীরভূমের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আক্রান্ত হয়েছেন নার্স। বীরভূমের মহম্মদবাজারের কাঁইজুলি প্রাথমিক স্বাস্থ্য়কেন্দ্রে নার্সের উপর মত্ত অবস্থায় পাথর নিয়ে হামলার অভিযোগ। হাসপাতাল সূত্রে দাবি, আক্রান্ত নার্স রিনা মণ্ডলের মাথায় ২২ টি সেলাই করতে হয়েছে। তার আগেই ভয়ানক কাণ্ড ঘটেছে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে। হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় মহিলা জুনিয়র চিকিৎসককে ধর্ষণের হুমকি ও মারধরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য় ছড়িয়েছে। ঘটনায় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর, নিরাপত্তার অভাববোধ করছেন হাসপাতালের চিকিৎসক-স্বাস্থ্য কর্মীরা। হাওড়ার উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মহিলা জুনিয়র চিকিৎসককে ধর্ষণের হুমকি ও মারধরের অভিযোগ ঘিরে ফের চাঞ্চল্য়! প্রশ্ন উঠছে, চিকিৎসক হেনস্থার সময় নিরাপত্তা রক্ষী কোথায় ছিলেন?