ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কলকাতা: খাস কলকাতাতেই এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য। ম্যানহোল পরিষ্কার করতে নেমে শিউরে উঠলেন সাফাই কর্মীরা। ম্যানহোলের মধ্যে থেকে উদ্ধার হল এক জনের পচাগলা দেহ। শুক্রবার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকার কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রিটের ঘটনা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
দেহটির এমনই পচাগলা অবস্থা যে পরিচয় জানা যায়নি। তবে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে মেডিক্যাল কলেজের পুলিশ মর্গে। দুর্ঘটনাজনিত কারণ, নাকি খুন, সেই তদন্তই এখন করছে পুলিশ। তবে আপাতভাবে বাইরে কোনও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ কেশব চন্দ্র স্ট্রিটের ম্যানহোলে নেমেছিলেন পুরসভার সাফাইকর্মীরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, জল যাচ্ছে না বলে অভিযোগ এসেছিল পুরসভার কাছে। সেই অভিযোগ পেয়েই পুরসভার কর্মীরা ছুটে আসেন। শুরুতেই তিনটে ম্যানহোল পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়। তখনই তাঁরা দেহটি খুঁজে পান। থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে তা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল পুলিশের তরফ থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়েছে কলকাতা পুলিশের ডগ স্কোয়াডও।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতা লেদার কমপ্লেক্সে পাইপ লাইনের কাজ করতে গিয়ে ম্যানহোলে নেমে তলিয়ে গিয়েছিলেন তিন শ্রমিক। ডুবুরি নামিয়ে চারঘণ্টা পর তাঁদের দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এর আগে দমদমে খোলা ম্যানহোলে পড়ে অটোচালকের মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় পড়েছিল রাজ্যে।
এবিপি আনন্দর খবর সম্প্রচারের পর, দমদম সেভেন ট্যাঙ্কস এলাকায় ঢাকা হয়েছিল ম্যানহোল। ম্যানহোলে পড়েই মৃত্যু হয়েছিল দমদম বেদিয়াপাড়ার বাসিন্দা রঞ্জন সাহার। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। মৃতের পরিবার কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছিল। পুরসভা দায় চাপায় পূর্ত দফতরের ঘাড়ে। রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল । অস্থায়ীভাবে ঢাকা ছিল ম্যানহোল। এবিপি আনন্দে সেই খবর সম্প্রচারিত হতেই নড়েচড়ে বসে পূর্ত দফতর। ম্যানহোল মেরামতের পর বসানো হয়েছিল স্থায়ী ঢাকনা। ওয়ার্ড কোঅর্ডিনেটর আশ্বাস দিয়েছিল, পূর্ত দফতরের সঙ্গে কথা বলে বাকি খোলা ম্যানহোলগুলিতেও ঢাকনা বসানো হবে।