কলকাতা: কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজকে শোকজ করল জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন। বেশ কয়েক কোটি টাকার জরিমানার মুখে কলকাতার NRS হাসপাতাল। আর শোকজ নোটিস পাওয়ার পরেই হাসপাতালে চিকিৎসক-অধ্যাপকদের জন্য নোটিস জারি হল। নোটিসে বলা হয়েছে, প্রতিদিন ফেস বায়োমেট্রিক মেশিনে ডিউটিতে যোগ দেওয়া এবং ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার রেকর্ড রাখা বাধ্যতামূলক করা হল। (NRS Hospital Kolkata)
নোটিসে আরও বলা হয়েছে, ইন অ্যান্ড আউটের রেকর্ড না থাকলে গরহাজির হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। আগে থেকে অনলাইনে ছুটির আবেদন করা বাধ্যতামূলক এবং না বলে ছুটি নিলে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে। হাসপাতালের সমস্ত চিকিৎসক-অধ্যাপক, সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তারদের জন্য় নোটিস জারি করেছে NRS. (Kolkata News)
কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজকে শোকজ করে মোট আটটি পয়েন্ট তুলে ধরেছে জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন। একাধিক ক্ষেত্রে বেনিয়মের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, NRS-এ মোট ২০টি বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি বিভাগে চিকিৎসকদের হাজিরা সংক্রান্ত রেকর্ড অসম্পূর্ণ রয়েছে। MBBS পরীক্ষা যখন চলছিল, তাতে সিসিটিভি-তে দেখা গিয়েছে হলের মধ্যে অবাঞ্ছিত ভিড় ছিল এবং হলের মধ্যে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন।
পাশাপাশি বলা হয়েছে, অ্যানাটমি, বায়োকেমিস্ট্রি, ফরেন্সিক এবং ফিজিওলজি বিভাগে কোনও সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক নেই। রেকর্ডে বলা হয়েছে, হাসপাতালের ৭৩ শতাংশ শয্য়ায় রোগী ভর্তি হয়েছে। বাকি রেকর্ড নেই। হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল ডিটেলের সঙ্গে কত রোগী মারা গিয়েছেন, সেই তথ্য কেন আপলোড করা হয়নি কেন, প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন।
NRS হাসপাতালে কত মানুষ চিকিৎসা পেয়েছেন, সেই তথ্যও অসম্পূর্ণ বলে জানিয়েছে জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন। হাসপাতালে কত রোগীর অস্ত্রোপচার হয়েছে, কত জন মারা গিয়েছেন, সেই তথ্যও অসম্পূর্ণ বলে মনে হয়েছে তাদের। সবমিলিয়ে আটটি পয়েন্ট তুলে ধরা হয়েছে। ধারা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এক একটি অনিয়মের ক্ষেত্রে এক কোটি টাকা করে জরিমানা করা হতে পারে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করা হয়েছে। NRS কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁরা লিখিত জবাব পাঠিয়ে দিয়েছেন। বাকি সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন।
NRS-এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। রোগী পরিষেবা থেকে ডাক্তারদের উপস্থিতি, অভিযোগ ছিল আগে থেকেই। এবার সেই নিয়ে শোকজ করল জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন। আর তার পরই নিয়ম-শৃঙ্খলা নিয়ে নড়েচড়ে বসলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।