পার্থপ্রতিম ঘোষ, অর্ণব মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : ঘরের ছেলে দেশে ফেরায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে। ২২ টা বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন পূর্ণমের পরিবার। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর অপেক্ষা সার্থক। দেশে ফিরলেন পাক বাহিনীর হাতে বন্দি বাংলার বিএসএফ জওয়ান পূর্ণমকুমার সাউ। ভারতের আরও এক কূটনৈতিক জয়।
ভারতের প্রবল চাপের কাছে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করল পাকিস্তান। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ পাঞ্জাবের আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে পূর্ণমকুমার সাউকে হস্তান্তর করা হয়। পূর্ণমের বাবা ভোলানাথ সাউ জানান, কাল রাতেই ফোন পেয়েছিলেন দিল্লি থেকে। তখন বিশ্বাসই হয়নি। তারপর আজ সকালেই ফোন পান তিনি। তখন বিশ্বাস করেন, ছেলে ফিরে এসেছে।
ভোলানাথ সাউ জানান, CM আর DG ফোন করেছিলেন। আপনার ছেলে পূর্ণমকুমার সাউ ইন্ডিয়াতে চলে এসেছে। অনেক ভাল লাগছে। আমরা খুব খুশি। সবাইকে ধন্যবাদ দেব, সবাই মিলে আমার ছেলেকে আনার জন্য। আমার ছেলে যেখানে ছিল, সেখানেই যাবে। আমি কোনওদিন মানা করব না, যে তুমি যাবে না। দেশের জন্য তুমি জীবন দিয়ে দাও। দেশে তো ফিরল ছেলে। এবার ঘরে আসবে কবে? রিষড়ার বাড়িতে অপেক্ষায় বিএসএফ জওয়ানের পরিবার। অপেক্ষায় পড়শিরাও।
বিএসএফএর বিবৃতি অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল, বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে পাঞ্জাবের ফিরোজপুরে সেক্টরে ডিউটি করার সময়, ভুল করে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে চলে যান তিনি। তখনই তাঁকে আটক করে পাক রেঞ্জার্স। তারপর থেকে পাক্কা ৩ সপ্তাহ পাক বাহিনীর কব্জায় ছিলেন পিকে সাউ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাক রেঞ্জার্সের সঙ্গে নিয়মিত ফ্ল্যাগ মিটিং এবং নানা ভাবে কমিউনিকেশন চালিয়ে কনস্টেবল পূর্ণমকুমার সাউকে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই গভীর উদ্বেগে ছিল তাঁর পরিবার। বিএসএফ জওয়ানের চোখ বাঁধা ছবি সামনে আসার পর সেই উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়। বারবার ফ্ল্যাগ মিটিংয়েও সুরাহা মিলছিল না। স্বামীর মুক্তির জন্য অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই বিএসএফের সদর দফতরে পৌঁছে গিয়েছিলেন স্ত্রী রজনী সাউ। অবশেষে ২০ দিন পর দেশে ফিরলেন রিষড়ার বাসিন্দা বিএসএফ জওয়ান। স্বস্তি ফিরল পরিবারে।