নয়া দিল্লি: পহেলগাঁও হামলার পর সমস্ত পাক নাগরিকদের ২৭ এপ্রিলের মধ্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারত। একে একে তাঁরা পাকিস্তানে ফিরতে শুরু করেছেন। রিপোর্ট অনুসারে, বৃহস্পতিবার থেকে প্রায় ৭০০ জন আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত পেরিয়েছে ইতিমধ্যেই। জানা গিয়েছে, এঁদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন পর্যটক এবং চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছিলেন অনেকে। পহেলগাঁওয়ে নাশকতার পরই পাকিস্তানিদের চিহ্নিত করুন আর দেশে ফেরত পাঠান, দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এমনই নির্দেশ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
সীমান্ত পার হওয়ার আগে একজন মহিলা বলেছিলেন যে তিনি মহারাষ্ট্রের নাগপুরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি অন্যের পাপের জন্য 'শাস্তি' পাচ্ছেন। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেছেন, 'আমরা ফিরে যাচ্ছি, কিন্তু অন্য কারও কাজের জন্য অন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। পহেলগাঁওয়ে যা ঘটেছে তা ভুল ছিল... নিরপরাধদের হত্যা করা হয়েছে'। তিনি বলেন, বন্দুক-যুদ্ধ, বোমা হামলা এবং সন্ত্রাসী হামলার চেয়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং বাণিজ্য বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক থাকা ভাল।
হামলার পর ভারত সরকার ১২টি স্বল্পমেয়াদী ভিসাধারীদের জন্য 'ভারত ছাড়ো' নোটিশ জারি করে। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, সার্ক ভিসাধারীদের জন্য চলে যাওয়ার সময়সীমা ছিল ২৬ এপ্রিল। চিকিৎসা ভিসাধারীদের জন্য তা ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১২টি ভিসা ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে — ভিসা অন অ্যারাইভাল, ব্যবসা, চলচ্চিত্র, সাংবাদিক, ট্রানজিট, সম্মেলন, পর্বতারোহণ, ছাত্র, দর্শক, পর্যটক দল, তীর্থযাত্রী এবং দলীয় তীর্থযাত্রী ভিসা।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় কমপক্ষে ২৬ জন পর্যটক মারা যান। এরপরই গোটা কাশ্মীরে জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে সেনা। পাকিস্তানকে জব্দ করতে ছয় দফা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সর্বদলীয় বৈঠকও করেছে কেন্দ্র। সেখানে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিরোধীরাও এই বিষয়ে সহমত হয়েছে।
এদিকে, এখনও নির্লজ্জ পাকিস্তান। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হানার পর ফের জম্মু কাশ্মীরকে অশান্ত করার চেষ্টা। পরপর চারদিন সীমান্তে গুলিবর্ষণ পাক সেনার। বিনা প্ররোচনায় গতকাল মধ্যরাতে কুপওয়াড়া ও পুঞ্চ জেলার কাছে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে গুলি ছুড়তে শুরু করে পাক সেনা। পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী।