পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা: বিনা অনুমতিতে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ। তা হঠাতে গেলে পুলিশের ওপর আক্রমণ। পুলিশ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি ভাঙচুর। এককথায় প্রতিবাদের নামে তাণ্ডব। পুলিশের ওপর হামলার পাশাপাশি ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীদের একাংশ। ঘটনার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড-সহ গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৮ জনকে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। 

Continues below advertisement

রবিবার দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্যের সাক্ষী থাকল পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ও লাগোয়া এলাকা। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, RAF-এর পাশাপাশি নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।

কী ঘটেছিল? 

Continues below advertisement

রাজ্য সরকারের কিছু নীতির প্রতিবাদে পার্ক সার্কাসের ব্যস্ত ৭ মাথার মোড়ে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু সেই জমায়েতের কোনও পুলিশি অনুমতি ছিল না। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই পরিস্থিতিতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে উত্তেজিত হয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি, তাঁদের লক্ষ্য করে চলে নাগাড়ে ইটবৃষ্টি। ঘটনায় আহত হন ৩ পুলিশকর্মী।  

আরও পড়ুন, পুলিশের তাড়া খেয়ে ফিল্মি কায়দায় বেপাত্তা তৃণমূল বিধায়ক, অস্ত্র-সহ পাকড়াও এই নেতার ছেলে

এরপরেই পাল্টা অলআউট অ্যাকশনে নামে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের লাঠিচার্জ করে হঠানোর পাশাপাশি, চলে ব্যাপক ধরপাকড়। পুলিশ সূত্রে খবর, সোশাল মিডিয়ায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে মহম্মদ ফারহানউদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে। পুলিশ সূত্রে দাবি, পার্ক সার্কাসের ঘটনায় বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে। 

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার অশেষ বিশ্বাস বলেন, 'একটা অবৈধ জমায়েত হয়েছিল। ওরা চেষ্টা করছিল রাস্তা অবরোধের। পুলিশ যখন হঠাচ্ছিল, তখন পুলিশের ওপর আক্রমণ হয়। পুলিশের ৩টে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আমাদের তরফে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাউকে আমরা ছাড়ব না। আমার ৩ সহকর্মী আহত হয়েছেন। সোশাল মিডিয়ার পোস্টের ব্যাপারটা আমরা খতিয়ে দেখছি। আমরা  অনেককে পাকড়াও করেছি।'                                               

কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'পার্ক সার্কাসে যা হল, পুলিশ যা ব্যবস্থা নিয়েছে। দেখুন ২ ঘণ্টা সময় নিয়েই ফাঁকা করে দিল। এবার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে'।