পার্থ প্রতিম ঘোষ, কলকাতা : ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে ফের সক্রিয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জেলমুক্তির পর প্রথমবার বাড়ির বাইরে দেখা গেল প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিলেন বার্তা। বোঝাতে চাইলেন 'আমি তোমাদেরই লোক'।নিয়োগ দুর্নীতির ভয়ঙ্কর অভিযোগে তিন বছর জেল খাটার পর গত নভেম্বরে জামিনে মুক্ত হয়েছেন মাস কয়েক আগে। তারপর থেকেই কার্যত গৃহবন্দি। এর আগে এবিপি আনন্দকে দেওয়াই একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ' তৃণমূল প্রার্থী না করলে, নির্দল প্রার্থী হিসাবেও লড়তে পারেন। আর এবার শুরু করে দিলেন দুয়ারে - দুয়ারে জনসংযোগ। বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে গিয়ে বললেন, আপনাদের কাছে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও দায়বদ্ধ। নিয়োগ দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগে বিদ্ধ তিনি। তিন বছর জেল খাটার পর, তিনি জামিনে মুক্ত। যাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতির ভয়ঙ্কর অভিযোগ, যে শিক্ষা দুর্নীতির দরুণ ভুরি ভুরি চাকরি গিয়েছে মানুষের, সেই দুর্নীতির 'কিংপিন' তকমা মাথায় নিয়েই পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, 'সবচেয়ে আগে প্রয়োজন কর্মসংস্থান'।
এবার বিধানসভা ভোটের আগের রাজ্য বাজেটে ঢালাও প্রকল্প ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। বেকার ভাতার জন্য প্রতিদিন হাজারে হাজারে মানুষ দাঁড়াচ্ছেন ফর্মের লাইনে। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিচেন ক্যাবিনেটের এক সময়কার 'নম্বর টু' বলছেন, 'ভাতা তো এই প্রথম দেওয়া হচ্ছে না । এর আগে বামপন্থীরাও ভাতা দিয়েছে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যেও ভাতা আছে। সবচেয়ে আগে প্রয়োজন কর্মসংস্থান। ২ কোটি লোকের চাকরি দেব বলে ২টোও দিতে পারলাম না, এটা না করে কর্মসৃষ্টি করা প্রয়োজন'। তারপর আবারও বললেন, 'আমায় যারা ঢিল মারছে, কাদা মারছে, তারা ভেবে দেখুক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বে কত মানুষের চাকরি হয়েছে'। জেলমুক্তির পর প্রথমবার বাড়ির বাইরে বেরিয়ে বললেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ।
এর আগে সাক্ষাৎকারে, এই বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র নিয়েই পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, 'দল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ২০০১-এ। আমাকে দাঁড় করাবে। আমি তো জনগণের সঙ্গে কথা বলিনি। কিন্তু ২৫ বছর একই জায়গায়...আমি তো কোনও স্থান পরিবর্তন করে ২৫ বছর বিধায়ক থাকিনি। আমি ২৫ বছর একই জায়গায় থেকে বিধায়ক হয়েছি। অনেকে অনেক পদ নিয়ে থাকতে পারে। আমার কাছে মনে হয়েছে, যদি হারি বেহালার মানুষই আমায় হারাবে। ' তবে কি ফের ভোটে দাঁড়ানোর মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়?