মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল:  জাতীয় সড়কের উপর উল্টে গেল অ্যাসিড ভর্তি ট্যাঙ্কার। ভয়ঙ্কর ছবি উঠে এল দুর্গাপুরের দুর্ঘটনাস্থল থেকে। যদিও এই ঘটনায় হতাহতের খবর মেলেনি। তবে গোটা ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বেশ কয়েক ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয় জাতীয় সড়ের একটি লেন। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে বলে জানা গিয়েছে। (Gas Tanker Accident)

সোম-মঙ্গলে ভোররাত ৩টে বেজে ১০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে মুচিপাড়া উড়ালপুল সংলগ্ন ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর। ট্য়াঙ্কারটিতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ছিল বলে জানা যাচ্ছে। সেই সুদ্ধ জাতীয় সড়কের উপর উল্টে পড়ে ট্যাঙ্কারটি। আশপাশের এলাকাও ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। সেই সঙ্গে তীব্র গন্ধে টেকা দায় হয় স্থানীয়দের। আতঙ্ক ছড়ায় ওই এলাকার স্থানীয়দের মধ্যে। (Paschim Bardhaman News)

জানা গিয়েছে, ভোররাতে বিহার থেকে কলকাতা আসছিল হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ভর্তি ট্যাঙ্কারটি। মুচিপাড়া উড়ালপুলের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। এক ফলে সরাসরি ডিভাইডারে ধাক্কা মারে ট্যাঙ্কারটি। সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া এবং তীব্র গন্ধে ঢেকে যায় গোটা এলাকা। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন অনেকেই। কাপড়ে নাক-মুখ ঢেকে বাইরে দেখা যায় বেশ কিছু জনকে।

স্থানীয় মানুষজনই থানায় ফোন করে দুর্ঘটনা খবর দেন। খবর যায় দমকলেও। এর পর ঝুঁকি এড়াতে প্রথমেই জাতীয় সড়কের আসানসোল ও বর্ধমানগামী লেনে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পর জল ছড়িয়ে গ্য়াসের প্রকোপ ঠেকাতে নামেন দমকলকর্মীরা। দুর্ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় ক্রেন। সেই ক্রেন দিয়েই ট্যাঙ্কারটিকে সরানো হয় জাতীয় সড়কের উপর থেকে। শেষ পর্যন্ত বন্ধ লেনে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

লাগাতার সচেতনতামূলক প্রচার সত্ত্বেও পথ দুর্ঘটনায় রাশ টানা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই একাধিক দুর্ঘটনার খবর উঠে আসছে রাজ্য-সহ গোটা দেশ থেকে। দু'দিন আগেই পাত্রসায়রে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ১০ চাকার ডাম্পার সটান একটি বাড়িতে ঢুকে যায়। বাড়ির মালিক সেই সময় শুয়েছিলেন। তিনি ধংসাবশেষের নীচে চাপা পড়েন। প্রাণরক্ষা হলেও, গুরুতর আহত হন তিনি।

একই দিনে, নদিয়ায় বাতিস্তম্ভে ধাক্কা মারে একটি নিয়ন্ত্রণহীন মোটর সাইকেল। জানা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় সারারাত রাস্তাতেই পড়েছিলেন চালক এবং আরোহী। পরে রানাঘাট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। জানা যায় ১৯ বছরের তরুণ নক্ষত্র বিশ্বাস এবং ৩২ বছর বয়সি প্রসেনজিৎ ঘোষ মেলা দেখতে যাবেন বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। আর বাড়ি ফেরা হয়নি তাঁদের।