কৌশিক গাঁতাইত ও মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল (পশ্চিম বর্ধমান) : ফের জামিনের আর্জি খারিজ। গরু পাচার মামলায় সায়গল হোসেনকে (Saigal Hossain) ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল আসানসোলের CBI আদালত। অন্যদিকে কয়লা পাচারকাণ্ডে CBI-এর চার্জশিটে তৃণমূল নেতাদের নাম না থাকায়, দুর্গাপুরে বিক্ষোভ দেখাল CPM। তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।
গরু পাচার মামলায় আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mandal) দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে। শুক্রবার ফের তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ করে দিল আসানসোলের CBI আদালত। অন্যদিকে, কয়লাপাচার কাণ্ডে CBI-এর চার্জশিটে তৃণমূলের কোনও নেতার নাম না থাকার অভিযোগে, দুর্গাপুরে CBI-এর অস্থায়ী ক্যাম্পের সামনে বিক্ষোভ দেখাল সিপিএম (CPM)। সব মিলিয়ে জোড়া পাচারকাণ্ডের মামলাকে কেন্দ্র করে, সরগরম পশ্চিম বর্ধমান।
জেল হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায়, শুক্রবার ফের আসানসোলের CBI আদালতে তোলা হয় গরু পাচারকাণ্ডে ধৃত অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে। জামিনের আর্জি জানিয়ে তাঁর আইনজীবী দাবি করেন, ৫ জুলাই সায়গলের সম্পত্তির যে তথ্য CBI আদালতে জমা দিয়েছিল, গত মঙ্গলবার একই তথ্যকে অন্যভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। দাবি করা হয়েছিল সায়গলের নতুন সম্পত্তির হদিশ মিলেছে।
এদিন আদালতে CBI-এর আইনজীবী রাকেশ কুমার উপস্থিত না থাকায়, তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন বিচারক রাজেশ চক্রবর্তী। আদালত সূত্রে খবর, সেই সময় CBI-এর আইনজীবী ধৃতের জামিনের বিরোধিতা করেন। এরপরই সায়গল হোসেনকে ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
গত মঙ্গলবার কয়লা পাচারকাণ্ডে প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছিল CBI। তাতে অনুপ মাজি ওরফে লালা, বিনয় মিশ্র, তাঁর ভাই বিকাশ মিশ্র-সহ ৪১ জনের নাম ছিল। কিন্তু কোনও তৃণমূল নেতার নাম নেই সিবিআই চার্জশিটে। এই অভিযোগে পথে নামল সিপিএম। দুর্গাপুরের গান্ধী মোড় থেকে মিছিল করে, CBI-এর অস্থায়ী ক্যাম্প পর্যন্ত যান দলের নেতা-কর্মীরা। এরপর NIT-র গেস্ট হাউসের বাইরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। সব মিলিয়ে কয়লাকাণ্ডে CBI-এর চার্জশিট নিয়েও নতুন করে দেখা দিয়েছে বিতর্ক।
আরও পড়ুন- বস্তা বস্তা ৫০০, ২০০০-এর নোট, কীভাবে 'পার্থ ঘনিষ্ঠের' বাড়িতে! চলছে জিজ্ঞাসাবাদ