কলকাতা : আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম চড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি। অপরিশোধিত তেলের দামে  তীব্র ওঠানামা চললেও দেশে আপাতত পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। প্রতিদিন সকাল ৬টায় তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) আন্তর্জাতিক ক্রুড অয়েলের দাম ও মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী জ্বালানির মূল্য আপডেট প্রকাশ করে। এই দৈনিক মূল্য সংশোধন প্রক্রিয়ার লক্ষ্য স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং গ্রাহকদের সর্বশেষ মূল্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া।                   

কেন্দ্রীয় সরকারের ইঙ্গিত, আপাতত খুচরো বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম স্থিতিশীলই থাকবে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার একটা অংশ তেল সংস্থাগুলিই বহন করছে, যাতে সাধারণ মানুষের উপর হঠাৎ করে দামের চাপ না পড়ে।         

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা, তেলের বাজারে প্রভাব              

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে চলা সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।  স্ট্রেট অফ হরমুজ দিয়ে প্রায় ২০% বিশ্ব তেল সরবরাহ হয়। সেখানে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবুও ভারতের বাজারে আপাতত দাম  আপাতত স্থির। তাতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ মানুষ।  

শহরপেট্রোল (₹)ডিজেল (₹)
দিল্লি94.7287.62      
মুম্বই104.2192.15   
কলকাতা103.9490.76      
চেন্নাই100.7592.34        
আমদাবাদ94.4990.17  

ভারতে ২০২২ সালের মে মাস থেকে পেট্রোল-ডিজেলের দামে বড় কোনও পরিবর্তন হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানির বাজারে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতির কারণ হতে পারে।  এর ফলে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, অপরিশোধিত তেলের দামও বাড়ছে । ব্রেন্ট এবং WTI ক্রুডের দাম ৬ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে।  ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি চললে ভবিষ্যতে তেলের সরবরাহে আরও টান পড়তে পারে।  বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগবে।