সরারহাট: একদা ফলতায় 'পুষ্পা'র দাপটে বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খেত। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর, সেই দাপটও নেই আর, নেই সেই হম্বিতম্বিও। তৃণমূলের সেই একসময়ের 'পুষ্পা' ওরফে জাহাঙ্গির খানকে এবার হাফ প্যান্ট পরিয়ে ঘোরাল পুলিশ। গ্রেফতারির পর জাহাঙ্গিরকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হল। সেই মতো হাফ প্যান্ট পরিয়ে সরারহাটে জাহাঙ্গিরকে ঘোরালেন আইসি ফলতা পার্থসারথি ঘোষ। (Jahangir Khan)

Continues below advertisement

তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জাহাঙ্গিরকে। তাঁকে ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়। রাজ্যে পালাবদলের আগে, নিজেকে 'পুষ্পা' বলে জাহির করে হুঙ্কার ছেড়েছিলেন জাহাঙ্গির। তোলাবাজির অভিযোগে এই মুহূর্তে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন তিনি। এদিন তাঁকে নিয়ে রাস্তায় বেরোয় পুলিশ। (TMC News)

ঘটনাস্থল থেকে যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, কালো রংয়ের হাফপ্যান্ট এবং ধূসর রংয়ের টি-শার্ট পরে রয়েছেন জাহাঙ্গির। তাঁর একটি হাত শক্ত করে ধরে রেখেছেন এক পুলিশ অফিসার। সামনে-পিছনে আরও পুলিশ রয়েছে। সেই অবস্থায় রাস্তায় ঘোরানো হয় জাহাঙ্গিরকে। ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতেই অভিষেককে এদিন রাস্তায় বের করা হয় বলে জানা গিয়েছে।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: দাঁতে টমেটোর বীজ আটকে তীব্র যন্ত্রণা, রুট ক্যানাল করতে গিয়ে হতভম্ব ডেন্টিস্ট, রোগীর মুখ থেকে বেরোল চারাগাছ

নির্বাচনের আগে হম্বিতম্বি করার সময়ই নিজেকে 'পুষ্পা' বলে জাহির করেন জাহাঙ্গির। সেই সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, "লোকাল পুলিশ, কাউকে নিচ্ছে না, সিআরপিএফ নিয়ে গিয়ে শুধু আমার বাড়িতে নয়, আমার সহকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। সিআরপিএফ হুমকি দিচ্ছে আমাদের মা-বোনেদের। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ধনক-টমক দিয়ে, ভয় দেখিয়ে রাখতে পারবেন না। উনি নিজেকে সিংহ মনে করলে, আমরাও পুষ্পা, ঝুকেগা নেহি। আমরা ঝুঁকব সাধারণ মানুষ দেবতার কাছে। কোনও দিল্লির পুলিশ বা বিজেপি-র দালালের কাছে মাথানত করব না।"

আরও পড়ুন: ফের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দু’বছর পর, আঁধার নামবে দিনের বেলায়

তবে রাজ্যে পালাবদলের আগেই জাহাঙ্গির কার্যত গুটিয়ে যান। ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এর পরই তাঁর গ্রেফতারির দাবিতে সরব হন স্থানীয়রা। বেশ কয়েক দিন বেপাত্তা থাকার পর তাঁর নাগাল পায় পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর সহযোগী ইসরাফিল চকদারকেও। তাঁর বিরুদ্ধে মারধর, হুমকি, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল, রাজ্যে দ্বিতীয় ও শেষ দফার নির্বাচনে ফলতায় ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। ইসরাফিলের বিরুদ্ধে রাস্তা আটকে ভোটারদের মারধর ও হুমকির অভিযোগ উঠেছিল।