বিটন চক্রবর্তী ও দীপক ঘোষ, পূর্ব মেদিনীপুর: রাষ্ট্রপতি (Droupadi Murmu) সম্পর্কে অখিল গিরির (Akhil Giri) কুমন্তব্যের প্রতিবাদে রাস্তায় নামলেন আদিবাসী (Adivasi) তৃণমূল (TMC) নেতা ও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান! দলের থেকে আগে জাতিগত পরিচয়। মন্তব্য তৃণমূল নেতার। যা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। যদিও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। 

অখিলের বিরুদ্ধে পথে নামলেন খোদ তৃণমূল প্রধান!

পাঁশকুড়ার (Panskura News) গোবিন্দনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতা ও প্রধান কালীপদ মাজি বলেন, "রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে এই অপমানসূচক...কুরুচিকর মন্তব্য এককথায় যেটাকে বলা হয়, সেটার জন্যই আমরা মিছিল করেছিলাম।" শাসকদলে থেকেই দলের নেতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামা নিয়ে কোনও রাখঢাকও নেই কালীপদর। পরিষ্কার জানালেন, তিনি তৃণমূলের প্রধান। 

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে সম্পর্কে কারামন্ত্রী অখিল গিরির কুরুচিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছে বিজেপি। এই প্রেক্ষাপটেই তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়ে, কার্যত একই সুর শোনা গেল পূর্ব মেদিনীপুরে পাঁশকুড়ার শাসকদলের পঞ্চায়েত প্রধানের গলায়।

রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে দলের মন্ত্রীর অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে পথে নেমেছেন কালীপদ।  শুক্রবার পাঁশকুড়ার রাতুলিয়ায় প্রতিবাদ মিছিল করেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। সেই মিছিলে অংশ নেন গোবিন্দনগর পঞ্চায়েতের প্রধান ও তৃণমূল নেতা কালীপদ।

আরও পড়ুন: Baruipur Murder : এবার জঙ্গলে মিলল দেহাংশ, প্রাক্তন নৌসেনা কর্মীর দেহ টুকরো করতে ব্যবহৃত করাতের খোঁজে তল্লাশি

সংবাদমাধ্যমে কালীপদ বলেন, "আমি হচ্ছি আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোক। রাজনীতি আজকে দু’বছর আছে, তিন বছরে থাকবে কি থাকবে না, তার ঠিক নেই। রাজনীতি আমি করতেও পারি, নাও করতে পারি। যেহেতু আমার, জন্মগতভাবে আমি আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোক, সেক্ষেত্রে আমার জাতির টান তো থাকবেই।"

কিন্তু তাঁর এই পদক্ষেপে দলের তরফে চাপ আসবে না তো! প্রশ্নের জবাবে কালীপদ বলেন, "সেটা আসাটা স্বাভাবিক। দল তার সিদ্ধান্ত নেবে। আমার এই কাজ যদি ভাল না লাগে, সেটা নিশ্চয়ই দল তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে।"

কালীপদর এই পদক্ষেপকে 'শুভবুদ্ধির উদয়' বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া চাইলে তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সৌমেন মহাপাত্র বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী যা বলার বলে দিয়েছেন। তারপরে কারও মন্তব্য করা অনুচিত বলে মনে করি। প্রতি স্তরে বারন করা হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে দেখে রাজ্যকে জানাব। রাজ্য সিদ্ধান্ত নেবে।"

অখিল-মন্তব্যে অস্বস্তি কাটছে না তৃণমূলের

রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে অখিল গিরির কুরুচিকর মন্তব্যে প্রেক্ষিতে অস্বস্তিতে তৃণমূল। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু, অখিল গিরিকে কেন মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হল না? কেন তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করা হচ্ছে না? সেই প্রশ্ন তুলে ক্রমাগত সুর চড়াচ্ছে বিরোধীরা। এই প্রেক্ষাপটেই অখিলের মন্তব্যের প্রতিবাদে দলের পঞ্চায়েত প্রধানের পথে নামা, তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।