সন্দীপ সমাদ্দার, পুরুলিয়া: অমানবিকতার আরও এক নিদর্শন। ফের পথদুর্ঘটনা। এবার ঘটনাস্থল পুরুলিয়া। সেখানে মারুতি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম হয়েছেন এক বাইক আরোহী। জখম যুবক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় মাঝপথে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় আহতকে ফেলেই পালিয়ে গিয়েছিল মারুতি গাড়ির চালক। এরপরই ঘটনাস্থলে মর্মান্তিক মৃত্যু হল বাইক আরোহীর। সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে পুরুলিয়া-রাঁচি ১৮ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর জয়পুর থানার নারায়নপুর গ্রামের কাছে। মৃত যুবকের নাম বিকাশ মাহাতো (২৫)। বাড়ি পুরুলিয়ার জয়পুর থানার চাপাইটাড় গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে খবর নিয়ে জানা যায়, এদিন পুরুলিয়ার দিক থেকে বাইকে করে যাচ্ছিলেন সেই যুবক। মাঝপথে অন্যদিক থেকে আসা একটি মারুতি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে ওই বাইক আরোহীকে। ঘটনায় গুরুতর জখম হন ওই বাইক আরোহী। তড়িঘড়ি ওই যুবককে উদ্ধার করে মারুতি গাড়ির চালক একটি টেম্পু গাড়ি ভাড়া করে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু হঠাৎ করেই মাঝপথে চাষমোড় এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবককে ফেলে পালিয়ে যান সেই মারুতি গাড়ির চালক। দীর্ঘক্ষণ ওই স্থানে এভাবেই পড়ে থেকে ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় যুবকের। খবর পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পুরুলিয়া সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
পথ দুর্ঘটনার পরিমাণ দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। সদ্য হাওড়ায় পুলকার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৩ জন পড়ুয়ার। প্রত্যেকেরই বয়স ছিল ৭ থেকে ১১-র মধ্যে। পুলকারের চালককে গ্রেফতার করে পুলিশ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২ খুদে পড়ুয়া। শুরুর আগেই সব শেষ। স্কুল থেকে ফেরার পথে স্কুলের গাড়িই কেড়ে নিয়েছিল প্রাণ। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় ৩ খুদে পড়ুয়ার। গত সোমবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ, হাওড়ার মাদার মেরি স্কুলের পড়ুয়াদের নিয়ে ফিরছিল একটি পুল কার। উলুবেড়িয়ায় বহিরা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় পুকুরে পড়ে যায় পুলকারটি। সেই সময় পুলকারে ছিল ৫ জন পড়ুয়া। বাচ্চাদের উদ্ধার করতে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্থানীয়রা। কিন্তু ৫ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন পড়ুয়াকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ৭ বছরের ইশিকা মণ্ডল, ১১ বছরের সৌমিক দাস, ও ৯ বছরের পড়ুয়া অরিন দে-কে বাঁচানো যায়নি। অভিভাবক মন্দিরা মণ্ডল বলেন, পুজোর সময় চালকের হার্ট অপারেশন হয়েছিল। এরপর গাড়ি চালাত। অসুস্থতার জন্য হল কিনা জানি না। দুর্ঘটনার জন্য় খারাপ রাস্তাকেও দায়ী করেছেন স্থানীয়দের একাংশ।