সন্দীপ সরকার , কলকাতা : জলাতঙ্ক । ভয়ানক মারণ রোগ। একবার আক্রান্ত হলে ফলাফল মারাত্মক হতে পারে। কুকুর বা বিড়াল কামড়ে দিলে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকা নেওয়া আবশ্যিক।  কামড়ানোর জায়গায় গভীর ক্ষত হয়ে রক্তপাত হতে থাকলে, তখন অ্যান্টি-ব়্যাবিস টিকা নিতেই হয়। সেই ভ্যাকসিনের জন্যই বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে যেন লাগামছাড়া ভিড় ! কিন্তু অ্যান্টি-ব়্যাবিসের মতো এমন 'কমন' টিকা নিয়ে একটা হাসপাতালে এমন হুড়োহুড়ি কেন? প্রতিদিন দুশো থেকে আড়াইশো রোগী অ্যান্টি র‍্যাবিস নিতে ছুটে আসছেন বেলেঘাটা আইডিতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যত হিমসিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। কারণ, জেলা হাসপাতালে অ্যান্টি-ব়্যাবিস ভ্যাকসিনের অভাব।  এমন পরিস্থিতি তৈরি হল কেন? স্থানীয় সমস্ত সরকারি হাসপাতালেই তো জলাতঙ্কের প্রতিষেধক মেলার কথা। কিন্তু বাস্তব ছবিটা ভয়ঙ্কর। রোগীদের দাবি, কলকাতা লাগোয়া বহু জেলাতেই স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না জলাতঙ্কের প্রতিষেধক। যদিও, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের দাবি রাজ্যে জলাতঙ্কের প্রতিষেধকের সঙ্কট নেই। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম জানিয়েছেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। জলাতঙ্কের প্রতিষেধক সাপ্লাইয়ে কোনও সমস্যা নেই। স্টক আছে। এমন কেন হচ্ছে খোঁজ নিচ্ছি। 

Continues below advertisement

জলাতঙ্কের লক্ষণ কী কী 

জলাতঙ্ক (Rabies) একটি মারাত্মক রোগ। চিকিৎসায় দেরি হলে মৃত্যুও ঘটতে পারে আক্রান্তের। ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত কুকুর বা বিড়ালের কামড়/আঁচড় থেকে ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীর লালা থেকেই ঘটে সংক্রমণ। কুকুর বা বিড়ালের আঁচড়ে চামড়া চিরে গেলে দ্রুত জলাতঙ্কের টিকা নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকরা বলছেন, ৮০-৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রাণীর কামড় থেকেই জলাতঙ্ক ছড়ায়। কামড় বা আঁচড়ের পর ক্ষতস্থানটি সাবান জল বা আয়োডিন দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলা দরকার। কখনোই ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ বাঁধা যাবে না। কামড় খাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টিকা নেওয়া উচিত। ঠিক সেই কারণেই স্থানীয় হাসপাতালে টিকার অভাবে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে এমন উপচে পড়া ভিড়। এছাড়া মনে রাখা দরকার, শুধু কুকুর , বিড়ালের কামড়ই নয়, খাবারে কুকুর মুখ দিলেও সেই খাবার ফেলে দেওয়া দরকার। সেখান থেকেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।  কুকুর বা বিড়ালের আঁচড় লাগলেও টিকা নিয়ে রাখা ভালো।

Continues below advertisement

জলাতঙ্কের লক্ষণ 

জলাতঙ্কের প্রাথমিক লক্ষণই হল কামড়ের ক্ষতে ঝিনঝিন করা, চুলকানি, জ্বর, এবং মাথা ব্যাথা। এছাড়া জলে ভয় বা হাইড্রোফোবিয়া  সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য লক্ষণ। রোগী জল দেখলে বা জল খেতেও ভয় পান। এছাড়া  উদ্বেগ, বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, অনিদ্রা, এবং আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা যায়। শারীরিক অবস্থা ক্রমেই খারাপ হয়।