ভাস্কর ঘোষ, হাওড়া: বেলুড় মঠে শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মতিথি পালন। এদিন মহাসমারোহে বেলুড় মঠে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের  ১৯১ তম জন্মতিথি পালন হচ্ছে। ভোরবেলায় প্রথা অনুযায়ী মঙ্গলারতি  দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়েছে, সারাদিন ধরে নানা রকম ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলবে মঠে।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, বেলডাঙায় অশান্তির তদন্তে মুর্শিদাবাদ পুলিশের কাছে CD চাইল NIA, " কেস ডায়েরি না দেওয়া তদন্ত নষ্ট করার সমান.." !

Continues below advertisement

বেদ পাঠ ও স্তবগান, ঊষা কীর্তন, শ্রী শ্রী ঠাকুরের বিশেষ পুজো ও হোম, শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠ, ভক্তিগীতি, রামকৃষ্ণ লীলা প্রসঙ্গ পাঠ ও ব্যাখ্যা, ভক্তিগীতি শ্রী রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ লীলা পাঠ ও ব্যাখ্যা  গীতি-আলেখ্য, বাদ্য, ভজন  যন্ত্রসংগীত ইত্যাদি। বিকাল সাড়ে তিনটে ধর্ম সভা। সারাদিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি  হবে মূল মন্দিরে সন্ধ্যারতীর মাধ্যমে। সকাল ১১ টা থেকে প্রসাদের ব্যবস্থা রয়েছে। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে সেজে উঠেছে বেলুড় মঠ।সকাল থেকে দূর-দুরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত এবং দর্শক এসে হাজির হয়েছে বেলুড় মঠে।

অপরদিকে, শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১ তম জন্মতিথি উপলক্ষে সকাল থেকেই ভক্ত সমাগম হুগলির কামারপুকুরে। এদিন শ্রী রামকৃষ্ণের জন্মস্থান কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে ভোর ৪ টে  ৩০ মিনিটে মঙ্গলারতির মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। পুণ্যভূমি কামারপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণের মাটির বসতবাটিতে ও চলছে পূজার্চনা। সকাল থেকেই দেশ-বিদেশের ভক্তরা কামারপুকুরে আসতে শুরু করেছেন। জন্মতিথি উপলক্ষে একটি বিরাট সুসজ্জিত শোভাযাত্রা বের হয়। এলাকার স্থানীয় সমস্ত স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা শোভাযাত্রা করে মঠে প্রবেশ করে কামারপুকুর চটি পর্যন্ত যায়। উৎসব উপলক্ষে তিনদিন ধরে মঠে চলবে নানা অনুষ্ঠান। এছাড়া এদিন থেকে কামারপুকুরে ১৫ দিন ব্যাপী মেলা শুরু হল।

প্রসঙ্গত, রাজনীতির ঘূর্ণাবর্তে মণীষীদেরও রেহাই নেই! ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি ঘিরেও তৃণমূল-বিজেপি রাজনৈতিক কাজিয়া চরমে উঠল। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে  পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রীর। আর সেই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই নিশানা  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এদিন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ''স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসজীকে তাঁর জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য। তিনি আধ্যাত্মিকতা ও সাধনাকে যেভাবে জীবনশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা যুগে যুগে মানবতার কল্যাণ সাধন করে যাবে। তাঁর সুচিন্তিত বাণী ও বার্তা সর্বদা প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।''প্রধানমন্ত্রীর এই পোস্ট সামনে আসতেই আক্রমণ শানাতে দেরি করেননি মুখ্যমন্ত্রী।  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ''আমাদের প্রধানমন্ত্রী আবার বাংলার মহাপুরুষদের প্রতি তাঁর সাংস্কৃতিক অজ্ঞতাকে প্রকটভাবে প্রকাশ করেছেন। আজ যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথি। এই মহান সাধককে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নামের আগে এক অপ্রত্যাশিত ও অনুপযুক্ত শব্দ যোগ করেছেন - "স্বামী"। এটা সবার জানা, শ্রী রামকৃষ্ণকে সর্বত্র ঠাকুর (অর্থাৎ ঈশ্বর) নামে অভিহিত করা হয়।'