কলকাতা: স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে চাকরিহারা শিক্ষক প্রবীণ কর্মকারের। ইতিমধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলন করে শোকপ্রকাশ চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। 

আরও পড়ুন, এবার অপারেশন বেঙ্গলের ডাক সুকান্তর ! মুখ্যমন্ত্রীর সিঁদুর-কটাক্ষর ইস্যুতে কড়া প্রতিক্রিয়া BJP নেতার

' প্যানেলটা বাতিলে মানসিক যন্ত্রণাটা সহ্য করতে পারেননি..'

এদিন চাকরিহারাদের প্রতিনিধি চিন্ময় মণ্ডল বলেন , 'তিনি জিয়াগঞ্জের একজন শিক্ষক ছিলেন। ইংরেজির শিক্ষক। তিনি গতকাল রাত দেড়টার সময়,  পরলোকগমন করেন। তাঁর বাড়ি রঘুনাথগঞ্জে।  তিনি আমাদেরই একজন সহযোদ্ধা ছিলেন। অবশ্যই কিছু রোগে তিনি ভুগছিলেন, কিন্তু বিগত কয়েকদিন ধরে, তিনি প্রচন্ড দুশ্চিন্তায় ছিলেন।  এবং যেহেতু এই প্যানেলটা বাতিল হয়েছে, এবং দুর্নীতির কারণে, চাকরিটা গেছে। তাই তিনি সেই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে পারেননি। স্ট্রোকে তিনি মারা গেছেন। তাঁর আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে অবশ্যই আমরা নীরবতা পালন করব পরে।'

'এখনও যদি স্কুলে ফেরানোর ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে হয়ত পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মীদের লাশের স্তূপে পরিণত হবে'

যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের তরফে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। মৃত চাকরিহারা শিক্ষকের দুটি কিডনিতে সমস্যা ছিল। চাকরি হারিয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত দুশ্চিন্তাতে জর্জরিত ছিলেন। গতকাল তীব্র মানসিক টানাপোড়েনে স্ট্রোক করে পরলোক গমন করেছেন।মুখ্যমন্ত্রীর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত এই মৃত্যু যন্ত্রণাকে ত্বরাণ্বিত করেছে।এখনও যদি যথার্থ বিচার না পেয়ে সসম্মানে স্কুলে ফেরানোর ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে হয়ত পশ্চিমবঙ্গ নিষ্পাপ শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষা কর্মীদের লাশের স্তূপে পরিণত হবে। এর দায় সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকার, বিচার বিভাগ এবং নোংরা রাজনীতির অংশীদারদের নিতে হবে।  

'আমরা তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করছি না ..'

এদিন চিন্ময় মণ্ডল আরও বলেন, 'আমরা এটুকু জানাই,  মুখ্যমন্ত্রী দুই-তিনদিন আগে সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেছেন, যে নতুন পরীক্ষা হবে। উনি দুটো পদ্ধতির কথা বলেছেন। প্রথমেই বলেছেন পরীক্ষা। দ্বিতীয়ত বলেছেন, রিভিউ। আমরা তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করছি না। কারণ একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তিনি, জানেন যে কতবড় একটা দুর্নীতি হয়েছে। যার জন্য আজকে আমাদেরকে রাস্তায় বসে থাকতে হচ্ছে। ঘুমোতে হচ্ছে। শুধুমাত্র দুর্নীতির কারণে। কিন্তু আজকে তিনি বলছেন, রিভিউটা দুই নাম্বারে , এক নম্বরে পরীক্ষা। এক নম্বরে রিভিউ হওয়া উচিত।.. আবার পরীক্ষা না দিয়ে, যোগ্য যারা তাঁদেরকে পুনর্বহাল করা যায়, সেই ব্যবস্থাই কিন্তু সরকারকে করতে হবে। কোনওভাবেই ১০ বছর পরে এসে, সেই মেন্টালিটি থাকে না।'