কলকাতা: এও যেন এক জয়। কিন্তু চোখের জলে। যে জয়ে আনন্দ হয় না, বরং আরও একটু ফাঁকা হয়ে যায় বুকের ভিতরটা, এই অনুভূতি যেন তেমনই। নাহলে কি আর নিজের মেয়ের মৃত্যুর শংসাপত্র কোনও বাবা মায়ের পাওনা হতে পারে? কিন্তু এই শংসাপত্রের জন্যই তো গত কয়েকটা মাস বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছেন হতভাগ্য বাবা মা। আবেদন করেছেন। ঘুরে বেড়াতে হয়েছে বিভিন্ন অফিসে, কিন্তু সুরাহা মেলেনি। অবেশেষে ডেথ সার্টিফিকেট পেল আরজি কর কাণ্ডে প্রয়াত চিকিৎসক তরুণীর পরিবার। সময় লাগল, ৭ মাস। 

আর জি কর কাণ্ডে ৭ মাস পর ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করল স্বাস্থ্য দফতর। ৯ অগাস্ট, ২০২৪, আর জি কর মেডিক্যালে চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের সেই ঘটনা আজও ভুলতে পারেনি গোটা দেশ। আর সেই ঘটনায় অভয়া অর্থাৎ নিহত চিকিৎসকের পরিবার মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেট পায়নি। মানুষ বিচারের দাবিতে পথে নেমেছে বারে বারেই। গর্জে উঠেছে কলকাতা, বলেছে 'উই ওয়ান্ট জাস্টিজ'। এখনও কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় চোখে পড়ে অভয়ার মৃত্যুর প্রতিবাদে মিছিল। তবে সেই মিছিলের রোষ কিছুটা স্থিমিত। কেটে গিয়েছে ৭ মাস। এখনও মেলেনি বিচার।

২০২৪-এর ৯ই অগাস্ট, আর জি কর হাসপাতালের বুকে ঘটে যায় নারকীয় হত্য়াকাণ্ড। কর্তব্য়রত তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায়, মূল অভিযুক্ত একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। যা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। কিন্তু, সেই ঘটনার পর, ৭ মাস পেরতে চলল। এখনও অধরা অনেক প্রশ্নের উত্তর। আন্তর্জাতিক নারী নিরাপত্তার দিন সেই সব প্রশ্নই ফের উস্কে দিয়েছিলেন নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা। তিনি বলেছিলেন, "নারীদের একটা দিন না, নারীরা সব দিন সমান। একটা দিন শুধু পালন করলাম, আর নারীদের সুরক্ষা দিতে পারলাম না, ওটা কোনও কাজ নয়।  কর্মরত একজন চিকিৎসক, তাঁর ডিউটির জায়গাতেই, দ্বিতীয় বাড়িতেই তাঁকে ধর্ষণ হতে হয়েছে, খুন হতে হয়েছে, ৭ মাস পরও সেটার সুরাহা পাচ্ছি না। মালদায়...সিভিক ভলান্টিয়ার মেরেছে। এটা দেখেছি ভিডিওতে, সিভিক ভলান্টিয়ার দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে।''

এর আগে আরজি করের ঘটনায় তরুণী চিকিৎসকের পরিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ও আর্জি জানিয়েছিলেন। অভয়ার মায়ের কথায়, নিরাপত্তা, সুরক্ষা এই ব্য়বস্থাটা যে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে এই কথাগুলোই যে অচল, সেটা আমার মেয়ে জ্বলন্ত উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি রাখব, যে, যদি আমার মেয়ের ন্য়ায় বিচারের জন্য় আমি একটু আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাই, যদি উনি ওঁর মূল্য়বান সময় থেকে আমার জন্য় একটু সময় বের করে আমায় সময় দেন, তাহলে আমি খুব আমি কৃতজ্ঞ থাকব ওঁর কাছে।