সৌভিক মজুমদার, কলকাতা : কলকাতা হাইকোর্টে জোর ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। আর জি কর কাণ্ডে় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের ফাঁসি চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। তাদের দায়ের করা মামলা গ্রহণ করল না হাইকোর্ট। বিচারপতি সাফ জানালেন, এই মামলা করার অধিকার রয়েছে একমাত্র তদন্তকারী সংস্থার অর্থাৎ সিবিআইয়ের।
হাইকোর্টে সঞ্জয় রায়ের ফাঁসি চেয়ে মামলা করে রাজ্য ও সিবিআই উভয়ই, তবে আলাদা আলাদা ভাবে। সেই বিষয়েই বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে মামলা করার অধিকার রাজ্যের নেই। তবে মান্যতা পেল সিবিআইয়ের আবেদন।
আর জি করের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় শিয়ালদহ আদালত। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসির সাজার আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। সিবিআইয়ের বক্তব্য ছিল যে রাজ্য এই মামলা করতে পারে না। তদন্তের ভার ছিল সিবিআইয়ের হাতে, তাই এই মামলা করার অধিকার রয়েছে একমাত্র তাদেরই।
গত ২০ জানুয়ারি শিয়ালদা আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অনির্বাণ দাস সঞ্জয় রায়ের আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন। নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে, সঞ্জয়ের ফাঁসি চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। সঞ্জয় রায়ের ফাঁসি চেয়ে তার ২ দিন পরেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় CBI-ও। সঞ্জয় রায়ের ফাঁসি চেয়ে মামলা করায়, প্রথম দিনই হাইকোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল রাজ্য় সরকার। রাজ্য়ের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ জানতে চেয়েছিল, রাজ্য সরকারের করা মামলা কি আদৌ গ্রহণযোগ্য, বিশেষ করে যে পক্ষ এখন তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যেই নেই? ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত না করেই রাজ্য সরকার কি এমন মামলা করতে পারে? গোড়া থেকেই CBI-এর বক্তব্য ছিল, রাজ্য পুলিশ যেহেতু তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে নেই, তাই রাজ্য সরকার এধরনের মামলা করতে পারে না। পাল্টা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল তখন দাবি করেছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এ রাজ্যের পুলিশের কাছেই অভিযোগ করেছিলেন। তার ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। সাজা নিয়ে অসন্তোষ থাকলে পুলিশ ও রাজ্য সরকারের তরফেও মামলা করা যেতে পারে।
কার মামলা গ্রহণযোগ্য? রাজ্য সরকারের নাকি CBI-এর? ২৭ জানুয়ারি এই মর্মেই শেষ হয় সওয়াল জবাব। রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল ১৯৭৬, ২০০৩ এবং ২০১০ সালের সুপ্রিম কোর্টের তিনটি নির্দেশনামা দেখিয়ে দাবি করেন, রাজ্য সরকারও শাস্তি বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করতে পারে। এই বিষয়ে নির্যাতিতার পরিবারের বক্তব্য ছিল তারা সঞ্জয় রায়ের ফাঁসি চান না।