কলকাতা: ফের মশাল হাতে প্রতিবাদ। রাজপথে ফের অগণিত মানুষ। ফের গর্জে উঠল অজস্র কণ্ঠ। আর জি কর-কাণ্ডের ১ বছর পার, তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার বছর পার, কোথায় সুবিচার? প্রশ্ন তুলে ফের পথে মানুষ। আবার হল 'রাত দখল'। রাস্তায় আন্দোলনকারী চিকিৎসক থেকে সাধারণ মানুষ।
শ্যামবাজার, রাসবিহারী মোড়, রুবির মোড় থেকে জেলা জেলায় ছবিটা এক। শ্যামবাজারে রাত দখলে উপস্থিত ছিলেন তামান্নার মা, আনিস খানের বাবা। সুর একটাই- বিচার চাই। সন্তানহারা মা, পুত্রহারা বাবা বিচার পাওয়ার আশায় পথে বসেছেন। এবিপি আনন্দকে তামান্নার মা বলেন, 'সেইদিন অভয়ার জন্য রাত জেগেছিলাম, আজ নিজের মেয়ের জন্যও জাগছি'।
কথা বলতে বলতে গলা ধরে আসে তামান্নার মায়ের। রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছে মেয়ে। সে দিনের কথা স্মরণ করে বলেন, 'আমার স্বামী পরিযায়ী শ্রমিক। মেয়েকে শত কষ্টের মধ্যে ভাল করে লেখাপড়া করানোর জন্য ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করে পড়াচ্ছিলাম। আমার মেয়েও চাইত চিকিৎসক হতে। আগের বছর অভয়াকে যেভাবে কষ্ট দিয়ে মারল ওঁরা, চোখে জল এসেছিল ওঁর বাবা-মার জন্য। আর আজ আমিও আমার মেয়ের জন্য পথে বসেছি বিচার চাইতে। এক বছরের মধ্যে আমার মেয়েরও কত কষ্টের মৃত্যু হল। আজ আমি আর অভয়ার মা একই পথে। দুজনেই মেয়েকে হারিয়েছি, বিচার পাইনি।'
যাদবপুর 8B-তে জাতীয় পতাকা হাতে বিচারের দাবিতে ওঠে স্লোগান। রানুছায়া মঞ্চে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে রাত দখল ঐক্যমঞ্চ। অভয়া মঞ্চের তরফে প্রতিবাদ কর্মসূচি করা হয় রাসবিহারীতে। অন্যদিকে, সিঁথিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে রাত দখলে সামিল হন মহিলারা। সোদপুরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন ঘোলা থানার পুলিশ এসে পৌঁছলে, পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান প্রতিবাদীরা। 'অভয়ার রক্তচোখ, আঁধার রাতের মশাল হোক', ব্য়ানারে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয় উলুবেড়িয়ায়।
দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ। কোথাও মশাল হাতে নেমেছে জনতা। কোথাও উঠেছে সুরে সুরে প্রতিবাদ। কোথাও মিছিল, কোথাও আবার জমায়েত। গত বছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে যেভাবে গর্জে উঠেছিল গোটা রাজ্য। এবছরও সেই আগুনের আঁচ পড়ল রাতে।
