কলকাতা: দেড় বছর আগে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুন। আর এবার লিফট-বিপর্যয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ঘটনাস্থল সেই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। আবার পরিকাঠামো নিয়ে উঠছে অজস্র প্রশ্ন। গাফিলতির কথা মেনে নিচ্ছেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, সোমে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট, শেষমেশ কত ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে ? অভিযোগ থাকলে তা জানানোর জন্য কোন সুযোগ থাকছে কি ? খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রে

এদিন ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'গাফিলতি তো হয়েছে। বড় গাফিলতি হয়েছে। পুলিশ নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে। এবং ব্যবস্থা নিয়েছে। যেকোনও মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখের। সেই পরিবারটার পাশে আমরা আছি, যে পরিবারটা তাঁদের সন্তান হারিয়েছে।' উল্লেখ্য, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচজনকে। অন্যদিকে মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে, রাজনীতিও শুরু হয়েছে পুরোদস্তুর। শুক্রবারই আর জি করের ঘটনায়, সরাসরি খুনের অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা সম্প্রতি ওড়িশার হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন কুণাল ঘোষ। গতকাল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, প্রত্যক্ষ খুনের জন্য দায়ী আর জি করের সুপার, স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীও। খুন করেছে। খুন করেছে। আন্ডার মেনটেন্যান্স লিফটে রোগীকে চাপিয়ে খুন করেছে। পরোক্ষ খুনি নারায়ণ স্বরূপ নিগম আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।'

Continues below advertisement

 পাল্টা তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক  কুণাল ঘোষ বলেন, অনভিপ্রেত ঘটনা।  রাজ্য সরকার সমস্ত পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করে দিয়ে গেছে। এবার স্থানীয় যে প্রশাসনগুলি রয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু শুভেন্দু বড় বড় কথা বলছে। ওড়িশার ICCU-তে আগুন লেগে ১০ জন পুড়ে মারা গেল। ফলে খারাপ ঘটনা খারাপ ঘটনা।  এই নিয়ে রাজনীতির কোনও অবকাশ নেই।' অন্যদিকে, সরকারি হাসপাতালের বরাত পাওয়া লিফট সংস্থা নিয়ে, বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন শমীক ভট্টাচার্য।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি  শমীক ভট্টাচার্য বলেন, যে লিফট কোম্পানি ওখানে লিফটটা বসিয়েছে, তাদের গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা কী আছে? কীভাবে তারা বরাত পেল? হাসপাতালগুলো হয়ে গেছে খোলা বাজার। দালালদের আখড়া। হাসপাতালের সুপার হাসপাতাল পরিচালনা করেন না। রোগী কল্যাণ সমিতি বাইরে থেকে সমান্তরাল ভাবে প্রশাসনকে ওখানে পরিচালনা করছে। যতক্ষণ তৃণমূল কংগ্রেস থাকবে, ততক্ষণ ছবি একই থাকবে। হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন চিকিৎসকদের একাংশ। ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের  সদস্য  পুলস্থ্য আচার্য বলেন, এটা একটা প্রশাসনিক ফেলিওর, এর দায় সরকারের, ভয়াবহ উদাসীনতা এরকম অংশ দিতে হবে।