কলকাতা: আর জি কর হাসপাতালে লিফট বিপর্যয়ের জন্য দায়ী আসলে কী? দু'টি সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করলেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, প্রথম কারণ হতে পারে 'হিউম্যান এরর'। লিফটম্যান থাকলে এই বিপর্যয় এড়ানো যেত বলে মনে করছেন তাঁরা। লিফট বিপর্যয়ের দ্বিতীয় সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যান্ত্রিক ত্রুটিকে। এখনও দুর্ঘটনাগ্রস্ত লিফট চালু করা যায়নি। সেটি ছ'তলায় বিপজ্জনক ভাবে আটকে রয়েছে। (RG Kar Lift Mishap)

Continues below advertisement

ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা গতকালই আর জি কর হাসপাতালে পৌঁছন। ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ে গিয়ে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ২ নং লিফটটি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। সেখান থেকে দু'টি তত্ত্ব সামনে এসেছে, প্রথম কারণ হল, লিফটে বিদ্যুৎ সরবরাহ সঠিক ভাবে হয়নি। যে কারণে লিফটি দু'বার ঝাঁকুনি দেওয়ার পর বেসমেন্টে নেমে যায় সোজা। লিফট সঠিক ভাবে কাজ করেনি। সেন্সর কাজ করেনি। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্যই এটা হতে পারে। আগে থেকেই ওই সমস্যা ছিল, নাকি অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা যে সময় উঠেছিলেন, তখনই ঘটে, তা খতিয়ে দেখা হবে। (RG Kar Lift Tragedy)

পাশাপাশি, যে দ্বিতীয় তত্ত্ব উঠে এসেছে, তা হল হিউম্যান এরর বা মনুষ্যঘটিত কারণ হেতু নেমে আসা বিপর্যয়। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার দিন কোনও লিফট ম্যান বা লিফট অপারেটর থাকলে, বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো হয়ত। পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্টের জন্য আগামী কাল ফের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা যাবেন সেখানে। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন ফিজিক্স এবং বায়োলজি বিভাগের আধিকারিকরাও। অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেঁড়া জামা, চুলের গোছা বা রক্তের নমুনা, যা এখনও বেসমেন্টে পড়ে রয়েছে, সেগুলির নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

Continues below advertisement

সোমবার লিফট নির্মাণকারী সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারদেরও ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি, পূর্ত দফতরের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী, যাঁরা লিফট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে, তাঁদেরও ডাকা হয়েছে। সকলের উপস্থিতিতে লিফটটি চালু করার চেষ্টা হবে। তবে রবিবারও আর জি কর হাসপাতালের লিফটে কোনও লিফটম্যান দেখা যায়নি। ফাঁকা পড়েছিল চেয়ার। সেই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন রোগীর পরিবার, আত্মীয়রা।

অরূপের স্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার দিন লিফটে ওঠেন স্বামী, ছেলে ও তিনি। এর পর আচমকাই বেসমেন্টে নেমে যায় লিফট। বেসমেন্টে লিফটের যে গেট ছিল, তাতে তালা ঝুলছিল। লিফট এবং গ্রিলের গেটের মাঝে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা। সেই অবস্থাতেই আচমকা উপরে উঠতে শুরু করে লিফট। অরূপের জামা লিফটের দরজায় আটকে যায়। অরূপের স্ত্রী এবং ছেলের লিফটের নীচের গর্তে পড়ে যান। সেই অবস্থায় অরূপকে নিয়ে ঘষটাতে ঘষটাতে উপরে ওঠে লিফট। কোনও ক্রমে ছেলেকে গ্রিলের সামনে তুলে দেন অরূপের স্ত্রী। কিছু ক্ষণ পর আবার নীচে নেমে আসে লিফট। সেই সময় স্ত্রীর কোলে আছড়ে পড়েন রক্তাক্ত এবং ক্ষতবিক্ষত অরূপ। তখনও বেঁচেছিলেন অরূপ, হাঁসফাঁস করছিলেন। ওই দু'ঘণ্টায় কারও সাহায্য় মেলেনি বলে জানান অরূপের স্ত্রী।