কলকাতা: সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। মেদিনীপুর মেডিক্যালের সাসপেন্ড হওয়া ৭ জুনিয়র ডাক্তার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন। প্রসূতি মৃত্যু কাণ্ডে সাসপেন্ড করা হয়েছিল ৭ জুনিয়র ডাক্তার সহ ১৩ চিকিৎসককে।
এর আগে স্টেট গ্রিভান্স সেলে চিকিৎসকরা চিঠি দিয়েছিলেন। আরজি কর কাণ্ডের পর এই গ্রিভান্স সেল তৈরি করা হয়েছিল চিকিৎসকদের অভাব অভিযোগ শোনার জন্য। শুধু তাই নয়, রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সেই চিঠি পাঠান স্বাস্থ্য ভবনে। কিন্তু কোনও পক্ষ থেকে কোনও বার্তা না আসায় এবার মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। সাসপেন্ডেড সাত চিকিৎসক পৃথক ইমেল পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীকে। এই শাস্তি পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয়েছে। আন্দোলনকারী এক জুনিয়র ডাক্তাররা বলেন, "আমাদের আর্জি একটাই যে ৭ জুনিয়র ডাক্তারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁরা তো শিক্ষানবিশ, তাঁরা সেই রাতে সেই কাজটুকু করেছিল যতটুকু সিনিয়র বলে দিয়েছিলেন। আমরা বরাবরই তাই করি। আমাদের সবার একটা কেরিয়ার আছে। ডিগ্রি পাওয়ার ব্যাপার আছে। তার আগে যাঁদের দ্বারস্থ হয়েছি তাঁদের কাছেও একই আর্জি। আমরা শিক্ষানবিশ এবং সিনিয়রদের নির্দেশ মতোই জুনিয়ররা কাজ করেন, এটা মাথায় রেখেই শাস্তি পুনর্বিবেচবনা করা হোক। গত পরশু একসঙ্গে এই ইমেল পাঠানো হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কিছু বার্তা পাইনি।''
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এক প্রসূতির মৃত্যু ও ৩জনের সঙ্কটজনক পরিস্থিতির জন্য় চিকিৎসকদেরই দায়ী করেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। মেদিনীপুর মেডিক্য়াল কলেজে সুপার সহ ১৩ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এরমধ্য়ে রয়েছেন ৭ জন সিনিয়র চিকিৎসক ৬ জন পোস্ট গ্র্য়াজুয়েট ট্রেনি বা জুনিয়র চিকিৎসক। এখানেই শেষ নয়, অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে সাসপেন্ডেড চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।
এর আগে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তারদের তরফ থেকে স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তাকে পাঠানো চিঠিতে লেখা হয়েছে, এনএমসি গাইডলাইন মেনে সিনিয়র চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কাজ করছিলেন এই জুনিয়র চিকিৎসকরা। এই সিদ্ধান্তে আমরা বিধ্বস্ত ও বিচলিত। ৭ জন জুনিয়র ডাক্তারদের সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হোক। আর এবার সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।
কী ঘটেছিল?
চলতি মাসেই মেদিনীপুর মেডিক্যালে এক প্রসূতির মৃত্যু এবং আরও চার প্রসূতির গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্য়ালাইন থেকে সংক্রমণের কারণেই, প্রসবের পরদিনই মৃত্য়ু হয় মেদিনীপুর মেডিক্য়াল কলেজে ভর্তি থাকা প্রসূতির। সুস্থ সন্তানের জন্ম দেন চন্দ্রকোণার বাসিন্দা, মামণি রুইদাস। পরিবারের অভিযোগ, স্য়ালাইন দেওয়ার পরই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরেরদিনই মৃত্য়ু হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, 'পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্য়াস' নামে ওই কোম্পানির স্য়ালাইন ব্য়বহারের ফলেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। প্রসূতিদের রক্তক্ষরণ বন্ধে ব্য়বহার করা হয় 'রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন'। সেই 'রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনে'র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জেরেই মৃত্যু হয়েছে প্রসূতির।
আরও পড়ুন: Saline Controversy:ফের নিষিদ্ধ স্যালাইন ব্যবহার! প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘিরে বিতর্ক