কলকাতা: ভয়ঙ্কর ছবি! দেখে শিউড়ে ওঠার মতো! বুধবার সল্টলেকে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক অ্যাপ বাইক চালক। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর গোটা একটা দিন কেটে যাওয়ার পর অবশেষে গ্রেফতার ঘাতক গাড়ির চালক। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তরুণকে বাঁচানোর আগে দুর্ঘটনাস্থলের ছবি তুলছিল পুলিশ। পরিবার অভিযোগ করতে চাইলেও পুলিশ নেয়নি। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত অভিযোগই খতিয়ে দেখা হবে।          

হাওড়ার মালিপাঁচঘড়া থেকে গ্রেফতার গাড়ির চালক বিনোদ রায়। সল্টলেকে গতকাল গাড়ির ধাক্কাতেই রেলিংয়ে আটকে যুবকের মৃত্যু হয়। আগুনে জ্বলছে দেখেও কিছু না করে ছবি তুলছিল পুলিশ, অভিযোগ পরিবারের। পুলিশ সক্রিয় ছিল বলেই ৩জন উদ্ধার, অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা দাবি পুলিশের। অনিচ্ছাকৃত খুনের পাশাপাশি পুলিশের ওপর আক্রমণের অভিযোগেও মামলা রুজু হয়েছে।  মৃতের পরিবারের দাবি, অভিযোগ করতে চাইলেও পুলিশ নিতে চায়নি। 

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর তরুণকে দ্রুত উদ্ধারের বদলে ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিল পুলিশ। দমকলও দেরিতে আসে বলে অভিযোগ। মৃতের দাদা প্রসূন মণ্ডল বলেন, 'পাক্কা এক থেকে দেড়ঘণ্টা পরে দমকল আসে। তখন আমার ভাইয়ের গায়ে আগুন লাগেনি। কিন্তু পুলিশ চেষ্টা করেনি, পুলিশ কী করেছে, নিজের ফোনটা বার করে ক্যাপচার করছে। যদি আমার ভাইটাকে নামানোর চেষ্টা করত, যদি দমকলে ফোনটা করত, তাহলে ভাই হয়তো...ক্ষতি হত কিন্তু বেঁচে থাকত।' 

তিনি বলেন, 'আমাদের কাছ থেকে কোনও কমপ্লেন নেওয়া হয়নি। ওর একটা মেসো (মৃতের আত্মীয়) এখানে থাকত। উনি পড়াশোনা জানেন না। ওঁরা (পুলিশ) কী বয়ান লিখেছে, উনি (মৃতের আত্মীয়) জানেন না। ওঁর কাছ থেকে সই করিয়ে নেওয়া হয়। আমাদের থানার ভিতরে ঢুকতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। বাইরে থেকে কথা বলে আমাদের বার করে দিয়েছে। ভাই ওখান থেকে এখানে ঝুলছিল, সেটা পুরো সম্পূর্ণ জলে ধুয়ে গেছে। এরপরে এসে কী নেবে? এখান থেকে কী সংগ্রহ করবে?' 

মৃতের পরিবারের তরফে বলা হয়েছে, 'লেখাপড়া না জানা একজনের সঙ্গে কথা বলে নিজেরা বয়ান লিখে পুলিশ শুধু সই করিয়েছে'। পুলিশ ও দমকলের বিরুদ্ধে দেরিতে আসারও অভিযোগ করেছে মৃতের পরিবার। দুর্ঘটনার পর বৃষ্টি হচ্ছে, ঘটনাস্থল যথাযথভাবে সুরক্ষিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ বিধাননগর পূর্ব থানার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মৃতের আত্মীয়-স্বজনরা। আজ দুর্ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা ছিল ফরেন্সিক টিমের।