সুনীত হালদার, জয়ন্ত পাল, হাওড়া : অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে এখনও অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন।  রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় বহু মহিলা যেমন সরকারকে ধন্যবাদও জানাচ্ছে, তেমনই কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে অসন্তোষ টাকা না-পাওয়ার জন্য। এবার যাঁরা টাকা পাননি, তাঁদের জন্য আশার কথা শোনালেন শমীক ভট্টাচার্য, বিজেপির  রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ। রবিবার হাওড়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শমীক বলেন, এটা ‘সিস্টেমের সমস্যা’র কারণে হচ্ছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে 'সাবোটেজ'-ও ( অন্তর্ঘাত) হয়েছে।  কিছু জায়গায় ফর্ম ফিল-আপ করতেও কেউ কেউ গা-ফিলতি দেখিয়েছিলেন। আরও ৫০ লক্ষ মহিলা অবিলম্বে পেয়ে যাবেন। প্রত্যেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। 

Continues below advertisement

বছরে ৩৬ হাজার টাকা তো কম টাকা নয় ! এত লক্ষ পুরুষ তারা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিচ্ছেন। সরকারি কর্মচারী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। আপনি কি এটা চান, যিনি স্কুলের শিক্ষিকা , যাঁর বেতন ১ লক্ষ চাকার উপর, তিনিও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন ... তিনিও  অন্নপূর্ণা যোজনা পাবেন, সেটা কী চান ? সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার প্রোজেক্ট তৈরি করা হয় মানুষের জন্য,তার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাঁরা পাওয়ার জন্য উপযুক্ত , তাঁরা প্রত্যেকে পাবেন।  

অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার সময় অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা না-পাওয়া মহিলাদের প্রশ্নের মুখে পড়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য প্রায় ২ কোটি মহিলার ফর্ম আপলোড করতে একটু সময় লাগছে । তাই  তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, একটু ধৈর্য ধরতে।  যোগ্য প্রত্যেক মহিলাই অবশ্যই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। অগ্নিমিত্রা বলেন, মা বোনেদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। ২ কোটি মহিলা যদি অ্যাপ্লিকেশন করে থাকেন,  সেটা আপলোড করতে একটু সময় লাগছে,  সেই সময়টা দিতে হবে। এছাড়া অগ্নিমিত্রা বলেন, 'বলতে খারাপ লাগছে কিন্তু অনেকে ভেতরে তৃণমূলের সব বসে রয়েছে।  যারা অনেক গণ্ডগোল পাকাচ্ছে । আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকেও জানাচ্ছি। দেখে দেখে যারা অযোগ্য তাদেরকে দিচ্ছে। এর ফলে যারা যোগ্য , তারা ক্ষুব্ধ হচ্ছে।   এই বিষয়টা সবই রাজনীতির অংশ । ধীরে সুস্থে সব ঠিক হয়ে যাবে। '       

Continues below advertisement

আগেই  মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে তৃণমূলের কারচুপির কারণেই অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য নতুন করে ফর্ম তৈরি করতে হয়েছে বিজেপি সরকারকে। মাত্র ৩ মাসের সরকারের বিপুল কর্মযজ্ঞে ভুল থাকলে সংশোধন করব।