সমীরণ পাল, সন্দেশখালি : শেখ শাহজাহান সন্দেশখালিতে যেরকম ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, রমজান মোল্লাও সেরকম অত্যাচার চালিয়েছেন। অস্ত্রকাণ্ডে গ্রেফতারের পরই ধৃত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন এলাকার বাসিন্দারা। আদালতে STF-এর দাবি, পরিকল্পিতভাবে তৈরি অস্ত্র পাচার চক্রের যোগ ছিল আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সঙ্গে। 

Continues below advertisement

আদালতে STF-এর দাবি, পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র পাচার চক্র তৈরি করা হয়েছিল দুই ২৪ পরগনায়। এই চক্রের সঙ্গে যোগ ছিল আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের। শেখ শাহজাহানের খাসতালুক সন্দেশখালিতে শনিবার মিলেছে অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ। মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র। বস্তাভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র মিলেছে শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার পুকুরে। সব মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৬ রাউন্ড গুলি। 

সন্ত্রাস আর ষড়যন্ত্রের ত্রিকোণ চক্র সন্দেশখালিতে, কীভাবে তাণ্ডব চালিয়েছে শেখ শাহজাহান, সওকত মোল্লা, রমজান মোল্লারা

Continues below advertisement

বাসন্তী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে চড়াবিদ্যা পঞ্চায়েতর তৃণমূল প্রধানের স্বামী রমজান মল্লা, ছেলে, ভাইপো-সহ ৬ শাহজাহান ঘনিষ্ঠকে। আর তারপরই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার কুমড়োখালি গ্রামে বাড়ি তৃণমূল নেতা রমজান মোল্লার, সম্পর্কে শেখ শাহজাহানের দূর সম্পর্কের আত্মীয়। রমজানের স্ত্রী শায়রা, চড়াবিদ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই গ্রামকে ঘিরেই অস্ত্র ও সন্ত্রাসের সাম্রাজ্য তৈরি করেছিলেন রমজান। 

শেখ শাহজাহান যেভাবে জমি-ভেড়ি দখল করেছিলেন, সেভাবেই অত্যাচার চালাতেন রমজান। রমজান মোল্লার বাড়ি কুমড়োখালি গ্রামে। রবিবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, বাডিতে কেউ নেউ। ক্যামেরা দেখেই পালালেন এক আত্মীয়া। গ্রামের মধ্যেই রমজান মোল্লার ভেড়ি ও আলাঘার। আলাঘরে গিয়ে দেখা গেল, পড়ে রয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহায়িকা পদের জন আবেদনপত্র। দলীয় পতাকা, প্রচারপত্র। আলাঘর না বলে তৃণমূলের পার্টি অফিস বলাই ভাল। সরকারি ত্রাণের ত্রিপল দিয়ে ঘেরা রয়েছে আলাঘরের চারদিক। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী সহ ধৃতদের এদিন তোলা হয় বিধাননগর মহকুমা আদালতে। ধৃতদের  ১৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। 

প্রায় ২ বছর ধরে জেলে আছেন শেখ শাহজাহান। সম্প্রতি জেলে গিয়েছেন সওকত মোল্লা ও রমজান মোল্লা। কিন্তু এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এখনও সক্রিয় তাঁদের সন্ত্রাস আর ষড়যন্ত্রের ত্রিকোণ চক্র। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সওকত মোল্লার ডেরা থেকে অস্ত্র আসত, শেখ শাহজাহানের কাছে, তারপর তা ছড়িয়ে পড়ত রমজান মোল্লার হাত হয়ে। আদালতে STF-এর দাবি, এলাকায় আরও অস্ত্র মজুত থাকতে পারে। তাই চালানো হবে তল্লাশি।