কলকাতা: বাণী বন্দনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সপরিবারে পুজো দিলেন অভিষেক। অভিষেকের সঙ্গে পুজোয় আগাগোড়া হাজির ছিলেন অভিষেক-পত্নী রুজিরা। 

সারাবছর রাজনৈতিক কাজে ব্যস্ত থাকলেও, জন্মদিনে তাঁকে খোশমেজাজে বাইরে বের হতে দেখা যায়। বাড়ি ঘটা করে পুজোর সময় অভিষেককে , মমতার পাশেই বসে থাকতে দেখা যায়। তাই এই ছবি নতুন নয়। বরং এই সময়গুলিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্পূর্ণ নতুন ভূমিকায় দেখতে পাওয়া যায়। যে রাধে, সে যে চুলও বাঁধে, পুরনো কথার ভিত আরও মজবুত হয়। এবারেও সপরিবারে পুজো দিলেন অভিষেক। পাশেই ঠায় দাঁয়িছিলেন স্ত্রী রুজিরাও।

সম্প্রতি আর জি কর-কাণ্ডে সরব শিল্পীদের একাংশকে বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। কিন্তু তাঁর অবস্থান দলের অবস্থান নয়, স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়! স্পষ্ট বললেন, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বা তিনি এই ধরনের কোনও বলেননি, তাই এটা দলের বক্তব্য় নয়! অভিষেকের পাল্টা অত্য়ন্ত ইঙ্গিতপূর্ণভাবে কুণাল ঘোষ বললেন, এ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলবেন সেটাই তিনি মানবেন।

 তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, 'এই আর জি কর-কাণ্ডে যে যে শিল্পী, যে যে তারকা কুৎসিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছে, সরকারকে আক্রমণ করেছে, তাদেরকে বয়কট করুন।' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পার্টির তরফ থেকে তো কেউ নির্দেশ দেয়নি। কে বলেছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু বলেছে? দলের তরফ থেকে আমি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি কিছু বলেছি? না।

আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নামা শিল্পীদের একাংশকে বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর অবস্থানকে সটান খারিজ করে দিলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সম্প্রতি চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে সরব শিল্পীদের বয়কটের ডাক দেন কুণাল ঘোষ। সমাজমাধ্য়মে এই পোস্টটি করেন তিনি। কুণাল ঘোষের এই বার্তার পরেই একাধিক তৃণমূল নেতার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বদলে যায় শিল্পীর মুখ। যার মধ্যে ছিলেন সঙ্গিতশিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তী এবং অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। এই দুজনকেই আর জি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদ-আন্দোলনে দেখা গেছিল। কিন্তু কুণাল ঘোষের মন্তব্যকে পত্রপাঠ খারিজ করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।  

এবার সরস্বতী পুজো ব্যতিক্রমী ছবি রাজ্যজুড়ে। একদিকে যখন বাগদেবীর আরাধনায় ব্যস্ত  রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে সেলেবরা, ঠিক তখনই অন্য ছবি শহরের কলেজগুলিতে। যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজে বাগ্‍‍দেবীর আরাধনা। কলেজের বাইরে বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে পুলিশ। যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের ডে ও ল' বিভাগের সরস্বতী পুজোয় বেনজির সংঘাতের জেরে মামলা গড়ায় হাইকোর্টে।

আরও পড়ুন, টাকা তোলা বিতর্কে মদনের মুখে এবার সরাসরি আইপ্যাকের নাম !

আদালতের নির্দেশে সশস্ত্র পুলিশি পাহারায় আজ ক্যাম্পাসে সরস্বতী পুজো হচ্ছে। যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল' কলেজের পুজো হচ্ছে ক্যাম্পাসেই। আর ডে কলেজ পুজো করছে কলেজের পাশে গলিতে। পুজোর উদ্যোক্তা তৃণমূল নেতা মহম্মদ সাবির আলি। সূত্রের খবর, নিজের কলেজে সরস্বতী পুজো নিয়ে এই ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর রিপোর্ট তলব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।