কলকাতা: টুকরো টুকরো তৃণমূল। ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার ১ মাসের মধ্যেই ভেঙে খান খান হয়ে গেল তৃণমূল। একের পর এক সাংসদ থেকে বিধায়ক, প্রত্যেকেই মুখ খুলছে দলের বিরুদ্ধে। কেউ বলছেন, তাঁরা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন দুর্নীতির কথা। কিন্তু দলকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। কেউ কেউ আবার বলছেন, একাধিক বিষয় নিয়ে দলের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে করেও সুযোগই পাওয়া যায়নি শেষমেষ! সম্প্রতি তৃণমূলকে নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন, শতাব্দী রায় (Satabdi Roy)। মুখ খুলেছেন, শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)-কে নিয়েও!
অভিষেকের জীবনযাত্রা নিয়ে বিস্ফোরক শতাব্দী রায়
এদিন শতাব্দী রায় বলেন, 'আমি যেটা ভুল বলছি সেটা হচ্ছে ওঁর (অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়) লাইফস্টাইল। ও (অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়) দলে যেভাবে, জীবনযাত্রা তৈরি করেছে, সেটা চোখে লাগার মতো এবং তাতেই মানে ওর চলাফেরা, তাতেই কিন্তু ও সবার কাছে অভিযোগের কারণ। যেখানে দিদি মাটিতে বসে চা খায়, সেখানে অভিষেক মাটিতে বসে না।' এখানেই শেষ নয়, শতাব্দী রায় আরও বলেন, 'যেখানে হাত দিচ্ছেন সেখানে দুর্নীতি পাচ্ছেন। যেটুকু জানা হত,সেটুকু জানানো হত। তাতে কোনও স্টেপ নেওয়া হত না কখনও।' জানিয়েও কি কোনও কাজ হয়নি? শতাব্দী রায় বলছেন, 'না। সবসময় বলা হত ভুল বোঝাচ্ছে তোমাদের।' তিনি আরও বলেন, 'নেত্রী হিসাবে এতগুলো মানুষকে জলে ফেলে দেওয়া...দিদি তো জলে ফেলে দিয়েছেন। আপনি বলবেন দিদিকেই সবাই ফেলে দিয়ে চলে গেল, দিদিও তো এতগুলো লোককে ডুবিয়ে দিল। এই যে এতগুলো লোক অ্যারেস্ট হচ্ছে, কাকে সেফ করতে পারছে? কাকে বাঁচাতে পারছে? দিদির জন্য তো লড়েছে এতগুলো লোক। সেটা তো দায় তো দিদিরও হবে।'
অন্যদিকে বাঁকুড়ার বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলছেন, 'ব্যক্তিগত ভাবে তো আর রাজনীতি হয় না। একটা রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটা গ্রুপ থাকে, একটা কমিটি থাকে, আলোচনা করে করতে হয়। আমি যা খুশি করব, তা তো হয় না। এর জন্য একটা মোটো দরকার। বাংলার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলটা তৈরি করেছেন। বয়স হয়ে গেছে তো। অতএব দলটার রেক্টিফিকেশন না করা হলে, দলটাকে টিকিয়ে রাখা যাবে না।'
