কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাজ্য বাজেট। এই বাজেটের দিকে প্রত্যেকেরই নজর ছিল। আজ, ২২ জুন, সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করেন, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। রাজ্য বাজেটে একাধিক বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেমন একদিকে DA নিয়ে বড় ঘোষণা করা হয়েছে, তেমনই ঘোষণা করা হয়েছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা নিয়ে বড় ঘোষণা। পাশাপাশি আজকের রাজ্য বাজেটে, চলতি অর্থবর্ষে, রাজ্যে পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়েও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু আন্তঃরাজ্য নয়, রাজ্যের বাইরেও যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি করার জন্য বড় ঘোষণা করেছে সরকার। আর এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘোষণা হল, কলকাতার কাছেই তৈরি হবে, আরও একটি নতুন বিমানবন্দর!
রাজ্যে ৩টি নতুন বিমানবন্দর
এদিন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেন, টআকাশপথে যাতায়াত আরও সহজ এবং সুগম করতে, এবং জেলাভিত্তিক পর্যটনের উন্নতি ঘটাতে, পশ্চিমবঙ্গে সরকারের 'উড়ান প্রকল্প'-তে তৈরি হবে একাধিক নতুন এয়ারপোর্ট। পুরুলিয়া, বালুরঘাট এবং মালদায় তৈরি হবে নতুন এয়ারপোর্ট। কোচবিহারে থাকা এয়ারপোর্টের বৃদ্ধি ঘটানো হবে এবং আরও উন্নত করা হবে। চলতি অর্থবর্ষের বাজেটে এই খাতে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। হাসিমারা এয়ারফোর্স স্টেশনের জন্য ২৫ একর জমি দেবে রাজ্য সরকার। কলাইকুণ্ডা এয়ারফোর্স স্টেশনের জন্য ৩৫ একর জমি দেবে রাজ্য সরকার। বিমানবন্দরের উন্নতির জন্য যাবতীয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সরকার।'
কলকাতার কাছেই দ্বিতীয় বিমানবন্দর
এখানেই শেষ নয়, অর্থমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে শহরের মধ্যে, সবরকম সুযোগ সুবিধা থাকার কারণে, দমদম বিমানবন্দর, যার পোশাকি নাম 'নেতাজি সুভাষ চন্দ্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর'-এর ওপর চাপ বাড়ছে। অধিকাংশ সময়েই মানুষ এই বিমানবন্দরের মাধ্যমে যাতায়াত করতে পছন্দ করেন। এই বিমানবন্দর একেবারে শহরের মধ্যে হওয়ায়, যাতায়াত ব্যবস্থাও খুব ভাল। সেই কারণে এই বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করেই যাতায়াত করতে পছন্দ করেন অধিকাংশ মানুষ। এদিন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, 'কলকাতা বিমানবন্দরের ওপর যাত্রী নির্ভরতা ভীষণ বেশি, সেই কারণে এখানে যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে। কলকাতার বুকে তাই একটি দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরি করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এর ফলে জেলাভিত্তিক আর্থিক উন্নতিও হবে। কল্যাণীর কাছে সরকার ১০০০ থেকে দেড় হাজার একর জমি চিহ্নিত করবে নতুন একটি গ্রীন ফিল্ড এয়ারপোর্ট তৈরি করার জন্য। এটি কলকাতা থেকে সহজেই যাতায়াত করা যাবে।' প্রসঙ্গত, যেহেতু কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে রয়েছে, সেই কারণে যাতায়াত ও যথেষ্ট সহজ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
