কলকাতা: টাটা গিয়েছে.. বছরের পর বছর পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু আজও হাল ফেরেনি সিঙ্গুরের। যে শিল্পের আশা দেখে, আশায় বুক বেঁধেছিল সিঙ্গুরবাসী, তা আজও পূর্ণ হয়নি। কিন্তু নতুন সরকার আসার পরে, নতুন আশায় বুক বাঁধছে সিঙ্গুরবাসী। এর আগেই, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বাজেটে শিল্প নিয়ে বড় ঘোষণা থাকতে পারে। আর রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এবারের বাজেটে সবচেয়ে বড় চমক থাকতে পারে নতুন শিল্পের ঘোষণা। পাশাপাশি, সিঙ্গুরে টাটা বা তাদের মতো বড় কোনও সংস্থা শিল্প করতে আগ্রহী- এমন ঘোষণাও বাজেটে থাকতে পারে বলে সরকারি সূত্রে খবর। আর কয়েক ঘণ্টা বাদেই মিলে যাবে সমস্ত উত্তর। সেই কারণেই বাজেটের আগে, আশায় বুক বাঁধছে সিঙ্গুরবাসী। তাঁরা মনে করছেন যে, সিঙ্গুরে শিল্প এলে গোটা রাজ্যেরই উন্নতি হবে।
কী চাইছে সিঙ্গুর?
বাজেট পেশের আগে, কী চাইছে সিঙ্গুরবাসী? এক বাসিন্দা বলছেন, 'বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের তো অনেক প্রত্যাশা। জমি তো চলে গিয়েছে। এতদিন ধরে আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে যে দুঃখ কষ্টে রয়েছি.. যে কাগজ আমরা পেয়েছি, সেই কাগজের কোনও মূল্য নেই যতদিন না এখানে শিল্প হচ্ছে। আমরা শিল্প চাই। আজকের বাজেটে যেন সিঙ্গুরের শিল্প নিয়ে কিছু থাকে। এই আশা আমাদের ১০০ শতাংশ রয়েছে। শিল্প দেখুক, কর্মসংস্থান দেখুক.. সিঙ্গুরবাসী এটাই তো আশা করে রয়েছে।' আরেক বাসিন্দা বলছেন, 'আমার বাড়ি অনেক দূরে, কাজের জন্য যাতায়াত করতে হয়। সিঙ্গুরে শিল্প আসলে, কাজ পেতাম। সমস্ত জিনিস বজায় থাকত। এখনও এখানকার রাস্তার কিছু কিছু জায়গায় আলো নেই। শিল্প এলে, রাস্তা আলোকিত হত। অনেক জায়গায় তো রাস্তাও নেই, সেগুলো হত। সামগ্রিকভাবে সব মানুষেরই কিছু না কিছু সুবিধা হত। যে কোনও জায়গায় বড় শিল্প হওয়া মানে, সেখানে বৃদ্ধি তো হবেই।'
একটা সময়ে, সিঙ্গুরে টাটাদের নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু তা হয়নি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রতিরোধে, সিঙ্গুর থেকে মুখ ফিরিয়েছে টাটারা। রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে। সিপিএম সরকার বদলে এসেছে তৃণমূল সরকার। কিন্তু শিল্প আসেনি, টাটা-রা আসেনি। বিঘার পর বিঘা জমি কার্যত বন্ধা হয়ে পড়ে রয়েছে। এই বাজেটে কি শিল্প পাবে সিঙ্গুর? উত্তরের অপেক্ষা করছে সবাই।
