প্রকাশ সিন্‌হা, কলকাতা : গ্রেফতার শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাস, ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করল ইডি। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে ইডি। সোনা পাপ্পু সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের ডিসি- কে। ৫ বার নোটিস পাঠানো হয়েছিল ইডি- র তরফে। আজ হাজিরা দিতে যান ডিসিপি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁকে জেরা করছিলেন ইডি আধিকারিকরা। বারবার নোটিস পাঠানোর পরেও হাজিরা এড়াচ্ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি। আজ সকাল ১১টা ৫ মিনিট নাগাদ ইডি দফতরে পৌঁছন শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাস। সকাল থেকেই দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল তাঁকে। ইডি- র তরফে দাবি করা হচ্ছে, কলকাতা পুলিশের ডিসি একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছে, তথ্য গোপন করেছেন, বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। এমনকী ইডি- র তরফে শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাসকে বিভিন্ন নথি দেখানো হলেও তিনি দাবি করেন যে, এইসব ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। 

Continues below advertisement

তিনটি মামলায় ইডি- র তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছিল কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাসকে। একটি ছিল সোনা পাপ্পুর তোলাবাজি এবং প্রতারণা সংক্রান্ত মামলা, দ্বিতীয় এনআরআই কোটায় মেডিক্যাল অ্যাডমিশন, তৃতীয় মামলা ছিল বালি পাচারের। আজ সোনা পাপ্পুর তোলাবাজি এবং প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাসকে। আগামীকাল তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। ইডি- র তরফে জানানো হয়েছে, বেহালার যে ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়, এই ব্যবসায়ীর বাড়িতে পাওয়া নথি-ডায়েরিতে নাম ছিল কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাসের। 

বেহালার ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের বাড়িতে পাওয়া ডায়েরিতে শান্তনু সিন্‌হার নাম উল্লেখ থাকার পরই কলকাতা পুলিশের ডিসি- র বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। বেনামে একাধিক জায়গায় সম্পত্তি ছিল তাঁর, এমন হদিশ পায় ইডি। এছাড়াও ব্যাঙ্কশাল কোর্টে ইডি- র স্পেশ্যাল কোর্টে যে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল, সেখানেও শান্তনু সিন্‌হা সম্পর্কে একাধিক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন তদন্তকারীরা। সেখানে বলা হয় একটি সিন্ডিকেট, নেক্সাস চালাতেন কলকাতা পুলিশের ডিসি। জয় এস কামদারের সঙ্গে ছিল এই নেক্সাস। কলকাতা শহরের একাধিক জায়গায় যাঁদের জমি রয়েছে, তাঁদের নামে ভুয়ো এফআইআর করে, থানায় ডেকে চাপ সৃষ্টি করা হতো এবং জমি দখল করা হতো। পুরোটাই প্রভাব খাটিয়ে করতেন শান্তনু সিন্‌হা, তাঁর মদতে বিভিন্ন জায়গায় জমি দখল করতেন জয় এস কামদার। বেআইনি টাকার লেনদেনও হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, কলকাতা পুলিশের অন্তত ১২ জন আধিকারিকের নাম পাওয়া গিয়েছে যাঁরা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 

Continues below advertisement

ইডি সূত্রে খবর, আজ সকালে প্রথমদিকে জেরার সময় সহযোগিতা করেছিলেন শাতনু সিন্‌হা বিশ্বাস। কিন্তু পরে যখন তাঁকে বিভিন্ন নথি দেখানো হয়, জয় এস কামদারের ফোন থেকে পাওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট দেখানো হয় তখন সেভাবে আর সহযোগিতা করেননি কলকাতা পুলিশের ডিসি। জয় এস কামদারের ফোন থেকে পাওয়া একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে দেখা গিয়েছে পাঠানো হয়েছে এফআইআর নম্বর। এর থেকেই ইডি আধিকারিকদের অনুমান যে, ভুয়ো এফআইআর করা হতো। সোনা পাপ্পু মামলায় খোঁজ মেলে জয় এস কামদারের, আর বেহালার এই ব্যবসায়ীর সূত্র ধরে নাম উঠে আসে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সি্‌হা বিশ্বাসের। আগামীকাল আদালতে কলকাতা পুলিশের গ্রেফতার হওয়া ডিসি সম্পর্কে আর কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য ইডি প্রকাশ করবে, সেটাই এখন দেখার। 

বারংবার নোটিস পাঠানোর পরেও যখন হাজিরা এড়াচ্ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি, তখন তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করতে একপ্রকার বাধ্য হয় ইডি। এরপর ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিকেও চিঠি পাঠানো হয় শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাসের খোঁজ চেয়ে। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে ইডি অফিসে হাজিরা দেন তিনি। কলকাতা পুলিশের এই ডিসি- র বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ, তিনি সিন্ডিকেটে মদত দিয়েছেন, প্রভাব খাটিয়েছেন, বেআইনি আর্থিক লেনদেনে মদত দিয়েছেন এবং তাঁর কাছেও টাকা পৌঁছত, অর্থাৎ আর্থিকভাবে লাভবান হতেন তিনি। আজ যেহেতু জেরায় তিনি সব প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দিয়ে সহযোগিতা করেননি, তাই শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাসকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে ইডি, এমনটাই খবর সূত্রের। আগামীকাল আদালতে পেশ করা হবে তাঁকে। আর কারা এই চক্রে যুক্ত, তা জানার জন্য জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি।