আলিপুরদুয়ার: দুই পায়ে প্লাস্টার নিয়েই SIR-শুনানিতে হাজির বছর পঞ্চাশের মহিলা। আলিপুরদুয়ার পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিখা ভৌমিক। ৭ দিন আগে বাড়িতে পড়ে দুই পায়ে প্লাস্টার। তাঁর সঙ্গে দেখা না করেই বাড়ির সদস্যদের হাতে হিয়ারিং-এর নোটিস, অভিযোগ শিখা ভৌমিকের। সেই অবস্থায় তাঁদের আসতে হয়েছে SIR-এর শুনানি কেন্দ্রে।
আরও পড়ুন, কোন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়তে চান ? এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দিলীপ
কেউ এসেছেন ভাঙা পা নিয়ে, কারোর নাকে নল, কেউ আবার ক্যানসার আক্রান্ত, রাজ্য জুড়ে SIR শুনানি চলাকালীন, গত কয়েকদিনে, এমনই টুকরো টুকরো হয়রানির ছবি উঠে এসেছে একাধিক শুনানি কেন্দ্র থেকে। সেই একই হয়রানির ছবি দেখা গেছে আলিপুরদুয়ারেও..আলিপুরদুয়ার পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিখা ভৌমিক। দিন সাতেক আগেই, বাড়িতে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে গেছে তাঁর। অভিযোগ, দুটো পায়ে প্লাস্টার করা অবস্থাতেই শুনানি কেন্দ্রে আসতে হয়েছে তাঁকে। SIR-শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটার শিখা ভৌমিক বলেন, পড়ে পা ভেঙে গেছে আমার। এখানে হিয়ারিং-এ ডেকেছে বলে এসেছি। কষ্ট ধরেই গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে এসেছে। এখন না আসলে যদি আবার নাম না থাকে। অনেকটাই তো হেনস্থা হতে হল। বছর পঞ্চাশের শিখা ভৌমিকের দাবি, এনুমারেশন ফর্মে আত্মীয় হিসেবে নিজের দাদার নাম লিখেছিলেন তিনি। SIR-শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটার শিখা ভৌমিক বলেন, আমার বাবা-মা তো অনেক দিন আগে মারা গেছে, ছোটবেলায়। দাদার কাছে আমরা মানুষ হয়েছি। দাদার কাগজ আনছি, ওগুলো দিয়ে হবে না।
প্রশ্ন: ২০০২ সালে নাম ছিল? শিখা ভৌমিক: না, আমাদের নাম ছিল না।
এ নিয়ে স্থানীয় BLO-র দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে পরিবার।SIR শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারের ছেলে জয়দেব ভৌমিক বলেন, আমাদের সাথে সাথে মায়েরও হেনস্থা হল। খবরও পাইনি। শুধু নোটিস দিয়ে এসেছে বাড়িতে। হিয়ারিং-এর জন্য আসতে হবে। ডেট দিয়ে এসেছে, টাইম দিয়ে এসেছে। কিন্তু জানায়নি যে এরকম কিছু সমস্যা থাকলে, বাড়িতে হবে বা কিছু..।যদিও এ প্রসঙ্গে ২১৫ নম্বর বুথের BLO জানিয়েছেন, শুধুমাত্র হিয়ারিং-এর চিঠি পৌঁছে দেওয়ারই নির্দেশ ছিল। এর বেশি উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশিকা ছিল না।অন্যদিকে, ভোটার-হয়রানির ইস্যুতে জেলা-রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে তরজা। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়িতে ধরা পড়েছে এই ছবি। এখানকার বাসিন্দা রুপচাঁদ মুনমুন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ তিনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ৩১ ডিসেম্বর অ্য়াম্বুলেন্সে করেই শুনানিকেন্দ্রে পৌঁছেছেন তিনি। গত ৩১ ডিসেম্বর শুনানির ছিল তাঁর।
একদিকে যখন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে আলিপুরদুয়ার থেকে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। কাকদ্বীপে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে SIR শুনানি শুরু। ৮৫ বছরের বেশি বয়স, শয্যাশায়ী, কাকদ্বীপে ৩টি বাড়িতে কমিশনের প্রতিনিধিরা। কাকদ্বীপের শ্রীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪৭ নম্বর বুথে হয় শুনানি। শুনানি প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন কাকদ্বীপের BDO। ৮৫ বছর বয়সি আলমবারি শেখের বাড়িতে গিয়ে শুনানি হয়। ৮৫ বছর বয়সি ও বিশেষভাবে সক্ষম মন্দা ধাড়ার বাড়িতেও শুনানি হয়।