SIR-প্রক্রিয়ায় হয়রানির অভিযোগে রাজ্যের দিকে দিকে চলছে প্রতিবাদ। তার মধ্যেই, আজ শুনানির প্রক্রিয়ার শেষ দিন। ২১ তারিখ পর্যন্ত চলবে নথি পরীক্ষার কাজ। SIR নিয়ে নিজের করা মামলায়  সুপ্রিম কোর্টে নিজেই সওয়াল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া হবেই।  চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি।

Continues below advertisement

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর থেকে, প্রথমে 'আনম্যাপড' ভোটারদের দিয়ে শুরু হয় SIR-এর শুনানি। এরপর ধাপে ধাপে 'লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি'র তালিকায় থাকা ভোটারদের শুনানিতে ডাকে কমিশন। গত প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে, শুনানি প্রক্রিয়ার মধ্যে বারে বারে উঠেছে হেনস্থা, হয়রানি, এমনকী আতঙ্কে মৃত্য়ুর অভিযোগ। এই নিয়ে সারা রাজ্যে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ হয়েছে। মৃতদের পরিবারকে নিয়ে দিল্লি পর্যন্ত চলে যান মতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর নিয়ে আইনি মামলা, রাজনৈতিক চানাপোড়েন এখনও অব্যাহত। এরই মধ্যে শেষ হল শুনানি। 

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতর জানিয়ে দিয়েছে শুনানি পর্ব শেষ হয়েছে। এছাড়াও, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতর জানিয়ে দিয়েছে, যেসব ইআরও ভুল তথ্য দিয়েছেন বা নথি ঠিক মতো আপলোড করেননি তাদের আগামী সোমবারের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এরই মধ্যে শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সে সব জেলা নির্বাচনী আধিকারিক অর্থাৎ জেলাশাসকদের কড়া হুঁশিয়ারি দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোটার তালিকায় বিদেশির নাম থেকে গেলে তার দায় বর্তাবে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক অর্থাৎ জেলাশাসকের ওপর। ৫ বছর পরেও এ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। 

Continues below advertisement

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, গাফিলতির অভিযোগে শুক্রবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষোভের মুখে পড়েন কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা নির্বাচন আধিকারিক। পাশাপাশি, নির্দেশ অমান্য়ের অভিযোগে শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়ে, তাঁর সঙ্গে কথা বলেন মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেখানে প্রায় ১ ঘণ্টার বৈঠক হয়। 

এদিকে নির্বাচন কমিশনের ওপর পাল্টা চাপ বাড়াতে সচেষ্ট হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও, মাইক্রোঅবজার্ভাররা এখনও বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্বে রয়েছেন, এমন অভিযোগে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য় নির্বাচনী আধিকারিককে নোটিসও পাঠিয়েছেন তিনি।