নন্দীগ্রাম: SIR-শুনানিতে অভব্য আচরণের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কর্মীর বিরুদ্ধে। অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে শুনানিতে যাওয়ায় প্রবীণ ভোটারকে হেনস্থা করার অভিযোগ। ওই প্রবীণ 'স্বামী নন, আসামি', এমন কটাক্ষ করা হয় বলে অভিযোগ সামনে এল। গোটা ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ওই প্রবীণ ব্যক্তি। (Nandigram News)
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের ১ নম্বর ব্লক থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম পাওয়া যায়নি ওই অশোক পট্টনায়েকের স্ত্রী গৌরী পট্টনায়েকের। এর ফলে SIR-শুনানির জন্য নোটিস দেওয়া হয় ষাটোর্ধ্ব গৌরীকে। কিন্তু গৌরী শারীরিক ভাবে অক্ষম এবং অসুস্থ। দু'বার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ভাল ভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। কানেও কম শোনেন।
প্রথমে স্ত্রীকে কিছু জানাননি অশোক। শেষে অসুস্থ স্ত্রীর সঙ্গে নিজে শুনানিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই মতো BDO অফিসের তিন তলায় উঠে যান। কিন্তু সেখানে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মী তথা অফিসার, তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন বলে অভিযোগ। (SIR in Bengal)
এবিপি আনন্দের মুখোমুখি হয়ে অশোক বলেন, "শুনানিতে আমার স্ত্রীকে ডেকেছিল। আমার সঙ্গে সম্পর্ক গ্রাহ্য হয়নি। ৩০ বছর আগে ওর মা-বাবা মারা গিয়েছেন। তাঁদের কোনও নথি নেই। বাধ্য হয়ে এই বৃদ্ধ বয়সে স্ত্রীকে নিয়ে শুনানিতে এসেছি। খুবই কষ্টের ব্যাপার।"
শুনানিকেন্দ্রে হেনস্থার কথা জানিয়ে অশোক বলেন, "বলছে, সরকারি নথিপত্র ছাড়া কিছু গ্রহণ করা হবে না। আমি জানালাম, যে আমি চাকরি করেছি। আমার পেনশন আছে। আমার পেনশন বুক দেখিয়েছি। কিন্তু সেই পেনশন বুকও গ্রহণযোগ্য নয়। আমি আমার সমস্ত নথিপত্র দেখিয়েছি। ৩০-৪০ বছর চাকরি করেছি, তাও দেখিয়েছি ওদের। বলছে, ফেলে দিন ওইসব।"
স্ত্রীর হয়ে সওয়াল করতে গেলে তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণ করা হয় বলে দাবি করেছেন অশোক। তাঁর বক্তব্য, "আমি বললাম, যে আমি ওঁর স্বামী। বলছে, 'স্বামী নন, আপনি এখন স্বামী নন, আসামি। ওই সব বাদ দিন। ওঁর (স্ত্রীর) কী আছে, দেখান'।" এহেন পরিস্থিতিতে আবারও তিন তলা থেকে সিঁড়ি ভেঙে স্ত্রীকে নিয়ে নেমে আসেন অশোক।
তবে শুধু নন্দীগ্রামই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকেই SIR-শুনানি ঘিরে হেনস্থার অভিযোগ সামনে এসেছে। BLO-রা যথেষ্ট প্রশিক্ষিত নন বলেও দাবি করছেন ভোটারদের একাংশ। উত্তর ২৪ পরগনার খড়িবাড়ি থেকেও হয়রানির একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। খাস কলকাতার একাধিক জায়গাতেও ক্ষোভ উগরে দেন ভোটাররা।