কলকাতা: সম্পর্ক আর বিতর্ক তো রয়েছেই, তবে চলতি বছরে বারে বারে প্রশ্নের মুখে পড়েছে রুপোলি পর্দার নিরাপত্তা! কখনও প্রথম সারির তারকার ওপর ছুরি দিয়ে হামলা তো কখনও আবার তারকাকে বারে বারে খুনের হুমকি। কোথাও আবার, বিনোদন দুনিয়ার আকাশ থেকে অকালে তারা খসে পড়া, যা ভুলবে না অনুরাগীরা। এক ঝলকে ফিরে দেখা যাক.. রুপোলি পর্দার অন্দরে কোথায় কোথায় জমাট বেঁধে রইল দুঃস্বপ্নের কালো মেঘ!
জন নায়কের জনসভায় মৃত্যু-মিছিল
বিগ স্ক্রিনে জন নায়গন মুক্তি আগেই রাজনীতির মঞ্চে জন নায়কের ভূমিকায় ট্র্যাজেডির শিকার হতে হয়েছে থলপতি বিজয়কে। তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মেগাস্টার থলপতি বিজয়ের রাজনৈতিক জনসভায় মৃত্যুমিছিল স্তব্ধ করে দিয়েছিল পুরো দেশকে। উচ্ছাস আর আনন্দের সমাবেশ মুহূর্তে বদলে গিয়েছিল স্বজন হারানোর কান্নায়। ২৭ সেপ্টেম্বর চেন্নাই থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে কারুরে থলপতির রাজনৈতিক দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগম-এর জনসভায় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ৪১ জনের। ঘটনার তদন্তে একটি কমিশনও গঠন হয়। প্রবল বিতর্কের মুখে পড়তে হয় থলপতি বিজয়কে। জন নায়গনের অডিও রিলিজের মঞ্চে এই মাসেই সিনে-ইন্ডাস্ট্রি থেকে অবসরের ঘোষণা করেছেন তিনি। জানিয়ে দিয়েছেন এখন থেকে তিনি সর্বক্ষণের রাজনৈতিক কর্মী।
জুবিন-শোকে স্তব্ধ বিনোদন জগৎ
গায়ক জুবিন গর্গের মৃত্যুর ঘটনায় এবছর উত্তাল হয়েছে অসম। উঠেছে বিতর্কের ধোঁয়া। সিঙ্গাপুরে নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে গান গাইতে গিয়ে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় জুবিনের রহস্য মৃত্যুর তদন্তে সিট গঠন করে অসম সরকার। সম্প্রতি তদন্ত শেষে আড়াই হাজার পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে সিট। চার্জশিটে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালের আয়োজক শ্যামকানু মোহন্ত, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ব্যান্ডের ড্রামার শেখর জ্যোতি গোস্বামী এবং গায়িকা অমৃতপ্রভা মোহন্তের বিরুদ্ধে। ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে জুবিনের মৃত্যুর পর প্রায় ৩০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী অফিসাররা। জুবিন গর্গের অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারেনি গোটা দেশ।
সেফ আলি খানের বাড়িতে ঢুকে হামলা
এবছর জানুয়ারিতে সেফ আলি খানের উপরে হামলার ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল দেশ জুড়ে। সেই ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। গভীর রাতে, বাড়িতে ঢুকে অভিনেতা সেফ আলির খানের ওপরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় আততায়ী। দেহের ছয় জায়গায় গুরুতর আঘাত পান সেফ। অস্ত্রোপচার করে তাঁর দেহ থেকে বার করা হয় ভাঙা ছুরির অংশ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মহম্মদ শরিফুল ইসলাম শেহজাদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করে মুম্বই পুলিশ। সেই গ্রেফতারিকে ঘিরেও একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল।
প্রশ্নের মুখে সলমন খানের নিরাপত্তা
নিরাপত্তার প্রশ্নে বার বার শিরোনামে এসেছেন সলমন খানও। এবছর ইদে সলমন খান গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বুলেটপ্রুফ কাঁচে ঘেরা বারান্দা থেকে অনুরাগীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। এপ্রিলে সলমন খানের গাড়ি বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মেসেজ আসে মুম্বইয়ের ওরলি ট্রাফিক বিভাগের হোয়াটসঅ্যাপে। মে মাসে সলমন খানের বাড়িতে বিনা অনুমতিতে ঢুকে পড়ার ঘটনায় এক মহিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরই গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের সুরক্ষা ব্যবস্থায় অত্যাধুনিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ইনস্টল করা হয়।