কলকাতা: SIR-এর শুনানি পর্ব শেষ। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। দোলের পরই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার কথা। আপাতত স্ক্রুটিনি চলছে। শুনানি পর্বে প্রামাণ্য নথি হিসেবে অনেকেই জমা দিয়েছেন সরকারি প্রকল্পের বাড়ির কাগজ। 

Continues below advertisement

কিন্তু তা কি প্রামাণ্য নথি হিসাবে গৃহীত হবে? গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন? এই নথি জমা দিয়ে কি নিজেকে ভোটার হিসাবে প্রমাণিত করা যাবে? এই নিয়ে এবার স্পষ্ট নির্দেশিকা দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। 

নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল- 'বাংলার বাড়ি প্রকল্পে'র নথি 'SIR'-এর জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। 'প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা', 'ইন্দিরা আবাস যোজনা'র নথি-ও প্রামাণ্য হিসাবে গৃহীত নয়। এই সব নথি প্রামাণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে কিনা, তা নিয়ে CEO-র প্রশ্নের উত্তরে দেওয়া চিঠিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের 'প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা' বা 'ইন্দিরা আবাস যোজনা', কিংবা রাজ্য় সরকারের 'বাংলার বাড়ি প্রকল্পে'র নথি 'SIR'-এর ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যই হবে না, এর আগে SIR-নথি নিয়ে কমিশনের নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন অথবা পেনশন পান এমন পরিচয়পত্র। 

Continues below advertisement

১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি, স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যে কোনও নথি। 

বার্থ সার্টিফিকেট 

পাসপোর্ট

মাধ্যমিক বা তার পরের শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট 

রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের শংসাপত্র

ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট

জাতিগত শংসাপত্র

কোনও নাগরিকের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার

স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্ট্রার

জমি অথবা বাড়ির দলিল।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী পরিচয়পত্র হিসাবে আধার কার্ড দেখানো যাবে। তবে তা দেখিয়ে নাগরিকত্বের দাবি করা যাবে না। 

এই আবহেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিল, কেন্দ্র বা রাজ্য, কোনও আবাস যোজনার নথিই SIR-এর প্রামাণ্য হিসেবে বিবেচিত হবে না। 

এই আবহে প্রশ্ন হল, ইতিমধ্যেই যাঁরা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের 'আবাস যোজনা'র নথি জমা দিয়েছেন তাঁদের কী হবে? তাঁদের নাম কি তাহলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় উঠবে না? নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তৃণমূলের তরফে পোস্ট করে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের মর্ম লঙ্ঘন করে এবং প্রযুক্তিগত অস্পষ্টতার উপর নির্ভর করে, নির্বাচন কমিশন এখন সরকারি আবাসন প্রকল্পের অধীনে জারি করা আর্থিক সহায়তা অনুমোদনের চিঠিগুলিকে বৈধ নথি হিসাবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে।

এরই মধ্যে, নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, শনিবার পর্যন্ত এরাজ্যে ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে। অন্যদিকে, শুনানিতে হাজিরা দেননি ৪ লক্ষ ৯৮ হাজার।