আবির দত্ত, কলকাতা: সদ্যোজাতের (neonatal) মৃত্যুকে (death) কেন্দ্র করে আর জি কর (R G Kar) হাসপাতালে উত্তেজনা (tension)। চিকিৎসায় গাফিলতি (medical negligence) হয়েছে, অভিযোগ (allegation) মৃত সদ্যোজাতের পরিবারের। জন্মের মাত্র ৫ দিনের মাথায় মারা যায় নবজাতকটি। পরিবারের অভিযোগ, তার মাথায় (head) আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কী ভাবে লাগল আঘাত? তোলপাড় আর জি কর।

কী অভিযোগ?দে গঙ্গার একটি পরিবারে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। গত ২৮ অক্টোবর প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ৩১ অক্টোবর ভূমিষ্ঠ হয় শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা চেয়েছিলেন, সিজারের মাধ্যমে জন্মদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হোক। কিন্তু নর্মাল ডেলিভারিই করা হয়। অভিযোগ, তার পর গত রাতে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারে পরিবার। পরিজনদের অভিযোগ, ডেলিভারির সময়ই টানাহ্যাঁচড়া করতে গিয়ে নবজাতকের মাথায় আঘাত লাগে। 'খুনেরও' অভিযোগ এনেছেন পরিজনদের অনেকে। সকলের দাবি একটাই, অভিযুক্ত চিকিৎসকদের শাস্তি হোক। এর মধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে মৃতের পরিবার। পাশাপাশি পরিস্থিতি সামলাতে হাসপাতালের গেটে পৌঁছে যান পুলিশকর্মীরাও। হাজির ছিলেন হাসপাতাল কর্মীরাও। সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।   

অভিযোগ আগেও...সদ্যোজাতের মৃত্যু ঘিরে আগেও বিতর্কে জড়িয়েছে আর জি কর। ২০২০ সালে জুনের একটি ঘটনায় হইচই পড়ে যায় গোটা শহরে। সে বার সদ্যোজাতের মৃত্যু ঘিরে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ এনেছিল পরিবার।  পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তীব্র আক্রমণ শানায় বিজেপি মহিলা মোর্চা। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ করা হয়, ১০ দিন ধরে শিশুমৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। ঘটনার সপ্তাহদুয়েক আগেই চন্দননগর হাসপাতাল থেকে সদ্যোজাতকে কলকাতায় রেফার করা হয়েছিল। তার পরই ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তবে শুধু আর জি কর নয়। চিকিৎসায় গাফিলতিতে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালের ঘটনা। সেবারও তুমুূল হইচই হয়েছিল। এছাড়াও একাধিক সরকারি হাসপাতালে মাঝেমধ্যেই এমন ধরনের ঘটনার কথা শোনা যায়। এদিকে গত জুলাইয়েই এক প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যুর পর অশান্তি বাধে এম আর বাঙুর হাসপাতালে। সিজ়ারে সন্তানের জন্মের পর দিনই পেটে তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছিল সাতাশ বছরের ওই প্রসূতির। কিন্তু তার পরও কোনও চিকিৎসকই তাঁকে দেখেননি বলে অভিযোগ করেন পরিজনরা। শেষে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন ওই বধূ।দু’দিন পরে তাঁর মৃত্যু হলে এম আর বাঙুর হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলে পরিবার। 

আরও পড়ুন:স্কুলে নিম্নমানের মিড ডে মিল দেওয়ার প্রতিবাদ, শিক্ষিকাকে মার প্রধান শিক্ষিকার