কলকাতা: ভোটে হেরে রাজপাট হারিয়েছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। চৌঠা মে থেকে তৃণমূলের অন্দরে শুধুই ভাঙন। একদা ছায়াসঙ্গী সাংসদ থেকে প্রাক্তন বিধায়ক, সবাই বিদ্রোহী। যাঁরা তৃণমূলের হাঁড়ির খবর জানতেন, তাঁরাই এবার মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সেই তালিকায় একদা তৃণমূল কংগ্রেসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোদ্ধা সোনালি গুহ।
সোনালি গুহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেছেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউকে বিশ্বাস করেন না। যাঁরাই ওঁনার ক্লোজ, মমতাদি ভাবেন তাঁরা বোধহয় সব জেনে গিয়েছে। উনি তো দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ। দুর্নীতি করেননি, এমন কোনও দুর্নীতি তো নেই। আজও হয়ত থ্রেট কল আসবে, তবে যা পারব বলে দেব। একবারই তো বলব।'
ভাইপো স্নেহে অন্ধ হয়ে ধৃতরাষ্ট্রের ভূমিকা পালন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই মনে করেন সোনালি গুহ। তিনি বলছেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে যত কম বলা যায়, ততই ভাল। ও তো কোনও আন্দোলন করে নেতা হয়নি। কোনও ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসও নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় কোটার মাধ্যমে নেতা হয়েছে। মমতাদি অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র হয়ে গিয়েছিলেন। ভাইপোকে তুলে ধরতেই হবে। আমাদের যাঁদের একটু আধটু যোগ্যতা ছিল, তারা যেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে টেক্কা না দিয়ে উঠতে পারে, সেটাই ছিল ওঁনার লক্ষ্য।'
২১ শে জুলাই নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সোনালি গুহ। তৃণমূল সুপ্রিমোর একসময়ের ছায়াসঙ্গী বলছেন, '২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু কোনও মারই খাননি। মার খেয়েছিলাম আমি, অশোকা ও প্রয়াত গৌতম বোস। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বাবার হাসপাতালে ভর্তি হন। ওটা মিনতি অধিকারীর মাথাফাটা রক্তের দাগ শাড়িতে লেগেছিল।'
শুধু সোনালি গুহই নয়, বিক্ষোভের সুর শোনা গিয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মুখেও। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জন্য়ই তৃণমূলের হার। নেতাদের ঔদ্ধত্য় মানুষ ঠিকভাবে নেয়নি। দলের জেলা সভাপতির পদ ছেড়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। নিশানা করেছেন I-PAC-কেও। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে, প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ বিক্রম সরকার বলছেন, 'ওর পার্টির মধ্যে ওই একজন, আর সবাই চাকর-বাকর।' অথচ, এতসবের পরও মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় সত্য়িটা স্বীকার করতে পারছেন না! গতকালও ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, 'রেজাল্টটা ডিক্লেয়ার করেছে জেতার জায়গায় হারা আর হারার জায়গায় জেতা। এই পাশাটাই উল্টেছে প্রায় ১৫০ সিটে এবং সেটা নাহলে আমরা ২২০-২৩০টা সিট পেতাম।'
