কলকাতা: কিছুদিন আগেই, জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে বীরভূমের এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। বোলপুর স্টেডিয়াম মাঠে, এক মঞ্চে এক সঙ্গে দেখা গিয়েছিল বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। এবার, বোলপুর আইসিকে কদর্য ভাষায় আক্রমণের আবহেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে প্রায় দুই সপ্তাহ আগের সেই ছবি। সেই ছবি নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে সমালোচনার ঝড়ও। এবার সেই নিয়েই মুখ খুললেন সৌরভ।

সমস্ত বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাফ দাবি, তিনি কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, পাবলিক ফিগার মাত্র। কোনও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তাঁর কোনও লেনদেনও নেই। বরং পাল্টা তিনি প্রশ্ন তোলেন কোনও নেতার সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করলে তাতে অসুবিধা কী? সমস্যা কোথায়? সৌরভ বলেন, ‘আমি ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের কাজে গিয়েছিলাম। আমি সবার সঙ্গে স্টেজ শেয়ার করি। তাতে কী হয়েছে? অন্যেরা নিজেদের রাজনৈতিক হিংসায় আমাকে জড়িয়ে ফেলে। আমি তো আর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নই। আমি যার সঙ্গে ইচ্ছে মঞ্চ ভাগ করতে পারি এবং আমি সেটাই করব।’

তিনি আরও যোগ করেন, যে গোটা বিষয়ে তাঁর কোনওরকম বিবৃতি দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁর মনে হয়নি। 'আমার তো চাওয়া, পাওয়ার কিছু নেই। আমি তো এখানেও অনেক লোকের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করছি। আমি পাবলিক ফিগার। আমি কত লোকের সঙ্গে মিশি। আর এ বিষয়ে কী সাংবাদিক বৈঠক করব! আর কে আমায় টার্গেট করল, তাতে কিচ্ছু যায় আসে না।' মন্তব্য সৌরভের। 

অনুব্রতর অডিও ক্লিপ তোলপাড় বাংলা। এক পুলিশ আধিকারিককে ফোন করে অশালীন ভাষায় হুমকির অডিও। তাঁর মা ও স্ত্রীকে অবমাননা করে কুৎসিত ইঙ্গিত। পুলিশ আধিকারিককে চুলের মুঠি ধরে মারার হুমকি। ন্যক্কারজনক এই অডিওয় হুমকিদাতা ওই কণ্ঠই নিজেকে অনুব্রত মণ্ডল বলে দাবি করে। তারপর সেই অডিও ভাইরাল হয়ে যেতেই তোলপাড় হয়ে যায় বঙ্গ রাজনীতি। তৃণমূল অনুব্রতকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেয় ৪ ঘণ্টার মধ্যে। তুলে নেওয়া হয় তার নিরাপত্তার একাংশ, কমানো হয় তাঁর জন্য বরাদ্দ গাড়ি। সময়ের মধ্যে ক্ষমা চেয়ে নিলেও, অনুব্রত মণ্ডল যে সত্যিই 'দুঃখিত', তবে তার প্রকাশ দেখা গেল না শনিবার ।

বোলপুর থানার আইসিকে কদর্য ভাষায় ফোনে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় শনিবার অনুব্রত মণ্ডলকে তলব করে পুলিশ। সকাল ১১টার সময়ে বোলপুরের এসডিপিও অফিসে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ডেডলাইন পেরিয়ে গেলেও সশরীরে হাজিরা দেননি অনুব্রত মণ্ডল।বরং ঠিক ১১ টার সময় মোটর বাইক চেপে এসডিপিও অফিসে আসেন তাঁর আইনজীবীরা। গোটা ঘটনায় যে বঙ্গ রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড়, তা বলাই বাহুল্য়।