সুকান্ত দাস, হংসরাজ সিংহ ও অমিতাভ রথ, কলকাতা: মৈপীঠে পাকড়াও বাঘ ফিরল ধূলিবাসানির জঙ্গলে। এক বাঘ জঙ্গলে ফিরতেই আরেক বাঘের পায়ের ছাপে আতঙ্ক। গ্রাম সংলগ্ন নদী বাঁধ এলাকার জঙ্গল জাল দিয়ে ঘিরে ফেলেছেন দফতরের কর্মীরা। বাঘের খোঁজে চলছে তল্লাশি। অন্যদিকে, পায়ের ছাপ ঘিকে বাঘের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামে।


ফের বাঘের আতঙ্ক:  দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৈপীঠে ফের দেখা দিল রয়াল বেঙ্গল আতঙ্ক। গত কয়েকদিন ধরেই মৈপীঠের বিভিন্ন জায়গায় বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রবিবার রাতে কিশোরীমোহনপুরে একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘ বন দফতরের খাঁচাবন্দি হয়। সোমবার সেটিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয় ধুলিবাসানির জঙ্গলে। এরপর ফের গুড়গুড়িয়া ভুবনেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়েতের গৌড়েরচক গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি মেনে বন দফতরের কর্মীরা এসে গ্রাম সংলগ্ন নদী বাঁধ এলাকার জঙ্গল জাল দিয়ে ঘিরে ফেলেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে বনকর্মীদের ৪০-৪৫ জনের দল বাঘের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে।

অন্যদিকে, পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের পর এবার বাঘের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বোরো এলাকায়। মেঠো রাস্তায় এ কার পায়ের ছাপ? বাঘ নাকি বাঘিনী? চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বেলডুংরির বোরো এলাকায়। মঙ্গলবার সকালে এই রকম ছাপ দেখতে পান এলাকার বাসিন্দারা। এরপরে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। ঘটনার পরেই বাঘের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছেন বনদফতরের কর্মীরা। বাঘের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, ঝাড়গ্রামেও। বন দফতর সূত্রে খবর, গত ৩ দিন ধরে পায়েপ ছাপ দেখা যাচ্ছে বাঁশপাহাড়ি এলাকায়। কিন্তু বাঘের দেখা মেলেনি। এদিন সকালে বন দফতর ট্র্যাপ কেমেরা বসায়। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন, বনকর্মীরা। বুধবার সুন্দরবন থেকে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে ওড়িশার সিমলিপাল থেকে পালানো বাঘিনীকে গত ২৯ ডিসেম্বর বাঁকুড়ায় বন্দি বানাতে সক্ষম হয় বন দফতর। ওড়িশার সিমলিপাল জাতীয় উদ্যান থেকে পালিয়ে এ রাজ্যের বেলপাহাড়ির কটাচুয়ার জঙ্গলে চলে আসে বাঘিনী জিনত। কাঁকড়াঝোড়ের ময়ূরঝর্নার জঙ্গল থেকে পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের রাইকা, তারপর পার্শ্ববর্তী কুইলাপাল বিটে কেশরার জঙ্গল হয়ে মানবাজারের ডাঙ্গরডির জঙ্গলে টের পাওয়া যায় তাঁর অস্তিত্ব। ড্রোনের সাহায্য়ে শুরু হয় নজরদারি। গোঁসাইডিহির জঙ্গলে বাঘিনীকে লক্ষ্য় করে ঘুম পাড়ানি গুলি ছোড়া হয়। তাতেই বাগে আসে বাঘিনী। তারপর ফের তিন জেলায় বাঘের আতঙ্ক।


আরও পড়ুন: Makar Sankranti 2025: ভোর থেকে পুণ্যার্থীদের লাইন, বক্রেশ্বর উষ্ণ প্রস্রবণে মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান