কলকাতা : চাকরিহারা শিক্ষকদের এসএসসি ভবন অভিযানের ঘোষণা হতেই সোমবার সকাল থেকে 'অতি তৎপর' পুলিশ। করুণাময়ী মেট্রো স্টেশনে চাকরিহারা শিক্ষক সুমন বিশ্বাসকে আটকাতে যায় পুলিশ। সেই মুহূর্তের ভিডিও নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেন সুমন। পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর এবং বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন সুমন বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাঁর কলার ধরে টেনেছে। মোবাইল ভেঙে দিয়েছে। মেট্রোয় উঠতে বাধা দিয়েছে। বুকে ঘুসি মেরেছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলতে গিয়ে অপমানে বিধ্বস্ত শিক্ষকের গলা কান্নায় বুজে এসেছে। চোখেমুখে ফুটে উঠেছে রাগ-আতঙ্ক।
কী বলেছেন সুমন বিশ্বাস ?
'আমার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে দিয়েছে। আমার কলার ধরেছে। আমার বুকে ঘুসি মেরেছে। আমার মোবাইলটা ভেঙে দিয়েছে। আমার নামে কোনও মামলা নেই। আমি কোনও খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত নই। টিকিট কেটে যাচ্ছিলাম। মেট্রো স্টেশনের ভিতর এরকম করেছে পুলিশ। ভয়াবহ পরিস্থিতি। আমি যেকোনও সময় মরে যেতে পারি। এফআইআর ছাড়া পারে না। এই পুলিশ আমার কলার ধরেছে। আমার মোবাইল ভেঙে দিয়েছে। এসিপি বিধাননগর আমায় ফোন করেছেন, ডেকেছেন। বিধাননগরের পুলিশ আমায় গ্রেফতার করতে পারবে না, বলেছেন। আমি গতকাল ভর দুপুরে পালিয়ে এসেছি একটা ধুতি পরে। ১০ কিলোমিটার হেঁটে এসেছি দুপুর রোদে। তারপর সাইকেল চালিয়ে এভাবে পালিয়ে এসেছি। এভাবে বাড়ি ছেড়েছি, কারণ জানি গত ১৮ অগস্ট পুলিশ আমার সঙ্গে যা ব্যবহার করেছিল, আবার তা করবে। গতকাল থেকে ঘুরে বেড়াচ্ছি অলিগলিতে। সারারাত জল ছাড়া কিচ্ছু খাইনি, কারণ বাইরে বেরোলেই পুলিশ ধরবে। হন্যে হয়ে কলকাতায় ঘুরছি। আমার অনেক কষ্টে পাওয়া, যোগ্য চাকরি গিয়েছে।'
'কেন বাংলার যোগ্য শিক্ষকের কলার ধরা হচ্ছে? কেন ঘুষি মারা হচ্ছে? আমি জানতে চাইছি মুখ্যমন্ত্রী। গলা টিপে দিয়েছে পুলিশ। ঘুষি মেরেছে বিধাননগর থানার নর্থ থানার এসআই। আমি ওনাকে চিনি। পুলিশ আমায় মেরে ফেলতে চাইছে। পুলিশ গলা টিপে ধরছে। ১০০ বারের উপর চিঠি দিয়েছি মুখ্যমন্ত্রীকে। আমায় বাঁচান। আমার মা অসুস্থ। এই ভিডিও দেখে কাঁদছেন। মাননীয়া পুলিশমন্ত্রী আপনার পুলিশ আমায় মেরে ফেলতে চাইছে। মাটিতে পুঁতে দিতে চাইছে। আতঙ্কে রয়েছে। আমি বারবার বলেছি আমি টিকিট কেটে যাচ্ছি। আমার নামে এফআইআর নেই। আপনি কী করছেন? জোরবরদস্তি করেছে আমার সঙ্গে।'
পুলিশ অনুমতি না দিলেও, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নির্দেশ দিয়েছেন আজ বিকেল ৪টেয় সুমন বিশ্বাস সহ চাকরিহারাদের ৫ সদস্যদের প্রতিনিধি দল যেতে পারবেন এসএসসি ভবনে।