সৌভিক মজুমদার, কলকাতা: ৩১ অগাস্টের মধ্যে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু নির্বাচনের জন্য শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশ লঙ্ঘিত হতে পারে বলে কলকাতা হাইকোর্টে জানাল স্কুল সার্ভিস কমিশন। তাদের দাবি, SSC-র হাতে সর্বসাকুল্যে ৩৫ জন কর্মী রয়েছেন। এর মধ্যে ভোট সংক্রান্ত কাজের জন্য ২৪ জনকে ইতিমধ্যেই নিয়ে গিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ওই কর্মীদের না ফেরাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা যাবে না। (SSC Recruitment Case)
মামলা দায়ের করতে এদিন হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। তারা জানায়, কমিশনের দফতরে আধিকারিকের সংখ্য়া অত্যন্ত কম, সাকুল্যে ৩৫ জন। এর মধ্যে ২৪ জনকে ভোটের কাজের জন্য নিয়ে গিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অথচ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, ৩১ অগাস্টের মধ্যে নতুন নিয়োগ শেষ করে ফেলতে হবে। সেই মতো স্কুলে স্কুলে ইন্টারভিউ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে এত সংখ্যক আধিকারিককে তুলে নেওয়া হলে, নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করতে দেরি হবে। কর্মীদের ফেরাতে না পারলে নিয়োগপ্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যাবে না। এই বিলম্ব হলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘিত হলে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হতে পারে কমিশন। (Calcutta High Court)
এমন পরিস্থিতিতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত বলে জানায় কমিশন। তাদের মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী সোমবার শুনানি হতে পারে। সেক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলার ভাগ্য নির্ধারণ করবে। তাই আপাতত সোমবারের দিকে তাকিয়ে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী।
নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের লিখিত পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই মুহূর্তে ইন্টারভিউ, কাউন্সেলিং পর্ব চলছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জেরে এর আগে ২০১৬ সালের গোটা প্যানের বাতিল করে দিয়েছিল আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের জন্য সেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা নিয়ে এই মুহূর্তে আশঙ্কায় কমিশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া কী করে সম্পূর্ণ করা হবে, তার সমাধানসূত্র বের করতে আদালতে গেল তারা।
অন্য দিকে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে তদন্তকারী সংস্থা। বাড়িতে গিয়ে যাতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সেই মতো আবেদন জানিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আগামী কাল সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হতে বলা হয়েছে তাঁকে। এই নিয়ে তৃতীয়বার নোটিস পাঠানো হল তাঁকে। আগে দু'বার নোটিস পাঠানো হলেও অসুস্থতার কারণে হাজিরা এড়ান পার্থ। তবে সম্প্রতি সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে যান পার্থর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্য়ায়।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI