কলকাতা: স্কুল শিক্ষক নিয়োগ মামলায় (SSC Recruitment Scam) ফের জেল হেফাজতেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায় (Arpita Mukherjee)। ফের তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ হল। আবারও ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠাল আদালত (Jail Custody)। তবে আর আদালতে এসে নয়, এ বার জেল থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমেই শুনানি হবে তাঁদের।
পার্থ-অর্পিতাকে ফের জেল হেফাজতেই পাঠাল আদালত
বুধবার ফের পার্থর জামিনের আবেদন জানান তাঁর আইনজীবী। আদালতে তিনি বলেন, "যে কোনও শর্ত মানতে রাজি আমরা। প্রয়োজনে পুলিশই নজরদারিতে একা বাড়িতে রাখুন। ওঁর বিভিন্ন রকম শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজন।"
শিক্ষক নিয়োগে যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তাতে সই করেছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী। ওই কমিটির কমিটির প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহা এবং কমিটির প্রাক্তন সদস্য অশোক সাহাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তাঁরা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে যুক্ত বলে দাবি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের।
কিন্তু পার্থ গোড়া থেকেই দাবি করে আসছেন যে, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে কমিটি গঠনের ফাইলে সই করা ছাড়া আর কিছুতেই জড়িত ছিলেন না তিনি। কিছু জানতেনই না। এ দিনও আদালতে তারই পুনরাবৃত্তি করেন পার্থর আইনজীবী। আদালতে বলেন, "এসএসসি বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না পার্থ চট্টোপাধ্যায়।" এমনকি অপা ইউটিলিটি সার্ভিসেস-এর সঙ্গেও পার্থ যুক্ত ছিলেন না বলে জানানো হয়।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: ২৭ নয়, ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত কনস্টেবল পদে আবেদন করা যাবে, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
কিন্তু এর পাল্টা জামিনের বিরোধিতা করে ইডি বলে, "সোনারপুরে রয়েছে অপা ইউটিলিটি সার্ভিসেসের জমি। জেলের ভিতরে থেকে এই তথ্য কীভাবে পেলেন পার্থ? ‘এটাই প্রমাণ করে তিনি কতটা প্রভাবশালী।" এ ছাড়াও, এ দিন আদালতে ইডি জানায়, নতুন আরও ৩০টি অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছে তারা। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ১০০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে। সেই সব অ্যাকাউন্টের লেনদেন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এর বাইরে, সিমবায়োসিস মার্চেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড নামে আরও একটি ভুয়ো সংস্থার হদিশও পাওয়া গিয়েছে বলে আদালতে জানায় ইডি। তারা দাবি করে যে, এই কোম্পানির শেয়ারের দামে কারচুপি করে কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। তাই হেফাজতে রেখে পার্থকে আরও জেরা করা প্রয়োজন।
জামিনের আর্জি খারিজ, ভার্চুয়াল হাজিরায় অনুমতি
পার্থর আইনজীবী শারীরিক অসুস্থতার কথা বললে জেল হেফাজতে রেখেই জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে আবেদন জানায় ইডি। তাতে সম্মতি দেয় আদালত। কিন্তু পার্থ এবং অর্পিতা, দু'জনের আইনজীবীই এই ভার্চুয়াল হাজিরার বিরোধিতা করেন। পার্থর আইনজীবী বলেন, "আমার মক্কেলের শারীরিকভাবে হাজিরা দেওয়ার মৌলিক অধিকার রয়েছে।" যদিও আদালত জানায়, জেলে পার্থর মৌলিক অধিকার খর্ব হয়নি। ইডি যে অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, এলআইসি পলিসি দেখাচ্ছে, তার কোনওটাই পার্থর নামে নয় বলেও দাবি করেন তিনি।