মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিম বর্ধমান: বর্ষা (Monsoon) মানে ওদের চোখে আতঙ্ক কারণ স্কুল ডুবে থাকবে জলের তলায়। পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলার কাঁকসা তিলক চন্দ্রপুর পঞ্চায়েতের হাজরাবেড়া বিদ্যালয়ের ছবি এটা। গত কয়েক মাস ধরে স্কুলটি জল থৈ থৈ। যার ফলে আতঙ্কে রয়েছে পড়ুয়া থেকে তাদের অভিভাবক, সকলেই।

কী ছবি?বর্ষা মানে স্কুল চত্বরে জল ঢুকবেই। এই সময়টা লেখাপড়া একপ্রকার শিকেয় ওঠে স্কুলপড়ুয়াদের, এমনই অভিযোগ। অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, বর্ষার মরসুমে স্কুলের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে যায়। নিকাশি ব্যবস্থা থাকলেও তা দীর্ঘ দিন ধরে পরিষ্কার হয়নি। ফলে স্কুল থেকে জমা জল বের হতে পারে না। বেরোলেও তাতে ৩-৪ মাস সময় লেগে যায়। ছবিটা যে শুধু এই বছরেরই, তা নয়। গত ৭ বছর ধরে স্কুলের এমন দশার কথা জানিয়ে আন্দোলন করে আসছেন পড়ুয়াদের অভিভাবকরা। কিন্তু অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। এই অবস্থায়, ‌পড়ুয়াদের পঠনপাঠন জারি রাখতে স্কুলচত্বর লাগোয়া একটি বাড়িতে লেখাপড়া করাতে বাধ্য় হচ্ছেন শিক্ষকরা। ‌কিন্তু এই ৪২জন পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটাই বুঝে উঠতে পারছেন না অভিভাবকরা। অন্ধকারে স্কুলের শিক্ষকরাও। প্রশাসন কবে স্কুলের এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির দিকে নজর দেবে, সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন সকলে। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির তরফে অবশ্য বলা হয়েছে, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের সময় নিকাশি ব্যবস্থা ঠিকঠাক ভাবে তৈরি না হওয়ায় উল্টো দিক থেকে জল এসে জমে যায় অপেক্ষাকৃত নিচু অংশে থাকা এই স্কুল চত্বরে। তবে অবিলম্বে এই নিয়ে ব্যবস্থ নেওয়া হবে, আশ্বাস কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতি ও দুর্গাপুরের মহকুমা শাসকের। 

অভিযোগ ইন্দাসেও...চলতি মাসের গোড়াতেই বৃষ্টির জমা জলে স্কুল থেকে পানীয় জলের নলকূপ ডুবে যাওয়ার ছবি ভেসে উঠেছিল বাঁকুড়ার ইন্দাসে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে যে পড়ুয়ারা স্কুলে আসতে পারেনি। বন্ধ থাকে মিড ডে মিল। দেখা যায়, জল থইথই হয়ে পড়েছে স্কুল চত্বর। ডুবে গিয়েছে পানীয় জলের কল। রান্না হবে কোথায়? বন্ধ হয়ে যায় মিড ডে মিল। বন্ধ থাকে পঠনপাঠনও। বাঁকুড়ার ইন্দাসের একটি শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের অবস্থা হয়েছিল এমনই। আকুই ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত বনকি আদিবাসী পাড়ায় শিশুদের লেখাপড়ার জন্য কয়েক বছর আগে চালু হয় এই কেন্দ্রটি। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে কোনও শিশু স্কুলমুখো হতে পারেনি। কারণ, স্কুল চত্বরে জমে রয়েছে হাঁটু-সমান জল।বিষ্ণুপুরের এসডিও অনুপকুমার দত্ত গোটা পরিস্থিতির কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন:অশ্লীল ভাষায় কবিতা, দিন-রাত দৌরাত্ম্য! আবাসিকদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্থানীয়দের