ঝিলম করঞ্জাই, শিবাশিস মৌলিক, রুমা পাল, কলকাতা: রাজ্যে বাড়ছে কোভিড সংক্রমণ। এই আবহেই কোভিড সংক্রমণ নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনীতি। রাজ্য়ে কোভিডের পোর্টাল নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে, অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ মানতে নারাজ স্বাস্থ্য় প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
বিরোধী দলনেতা, শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, 'কোভিডের যে পোর্টাল রয়েছে এই পোর্টালটা নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে'। তৃণমূল বিধায়ক ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলছেন, 'কেন্দ্রীয় সরকার জানে আমরা কী করছি'। উদ্বেগ বাড়াচ্ছে করোনার নতুন উপপ্রজাতি NB.1.8.1। সারা দেশের মতো এরাজ্যেও বাড়ছে সংক্রমণ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্য়ান অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত এরাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্য়া ৫৯৬।
শুক্রবার নতুন করে ৫৮ জন কোভিড সংক্রমিত হয়েছেন। চলতি বছরে এরাজ্য়ে মৃত্য়ু হয়েছে ১ জন করোনা আক্রান্তের। এই আবহেই একযোগে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে সরব হল বিজেপি এবং সিপিএম। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, 'কোভিডের যে পোর্টাল রয়েছে এই পোর্টালটা নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। কোভিডের ডেটার আসল সংখ্য়া না ওঠে। যেমন ডেঙ্গিতে চাপা হয়েছে সংখ্য়া, কোভিডের ক্ষেত্রেও তাই। আমাদের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের যে লিঙ্ক খুলে দেখবেন নন অপারেটিং নাও। শুধু মালদায় ১০টা টেস্ট হলে ৯ টা পজিটিভ।'
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলছেন, 'সরকারের উচিত মানুষকে সচেতন করার জন্য প্রচার করা। মানুষকে একটু সজাগ ও সতর্ক হতে হবে। সংখ্য়া গোপন করে কী হবে? বরং সংখ্য়া বাড়ছে যদি দেখা যায় যেরকম পার্সেন্টেজ বাড়ছে টেস্টের ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় পজিটিভ পার্সেন্টেজ বাড়ছে তাহলে সেটা তো আরও বেশি অ্য়ালার্ট করতে কাজে দেবে।' বিরোধীদের অভিযোগ মানতে নারাজ রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলছেন, 'কেন্দ্রীয় সরকার জানে আমরা কী করছি। কিছুদিন আগে একটা ভার্চুয়াল মিটিং হয়েছিল। এটা হয়তো বিরোধী দলনেতা জানেন না, যে ভার্চুয়াল মিটিংটা আয়োজন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য়মন্ত্রী। সেখানে সবকিছু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে আমাদের প্রশংসা করেছে।'
স্বাস্থ্য় দফতর সূত্রে খবর, করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে কাউন্টার খোলা হয়েছে। দৈনিক ৩ ঘণ্টা নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। শুক্রবারও পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২ করোনা আক্রান্ত শিশু। CMRI-হাসপাতালেও ভর্তি রয়েছে কোভিড আক্রান্ত ২ শিশু। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন করোনা আক্রান্ত ২ প্রৌঢ়। মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালের এক শিক্ষক চিকিৎসকের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেবাশিস ভট্টাচার্য বলছেন, 'কোভিড নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আতঙ্কিত না হয়ে মাস্ক পরুন'। দেশজুড়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার দিল্লিতে বৈঠক করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আবহে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এরাজ্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই।