Continues below advertisement

বিজেন্দ্র সিংহ, কলকাতা : সারদাকাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে জামিন-মামলার শুনানিতে আপাতত স্বস্তি পেলেন ডিজি রাজীব কুমার। রাজীব কুমারের জামিনের বিরুদ্ধে CBI-এর আবেদন বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট।  তবে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে CBI-এর আদালত অবমাননার অভিযোগ ছিল, তা বাতিল হয়নি।   ৮ সপ্তাহ পরে তা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট।  

 রাজীব কুমারের আইনজীবীর সওয়াল

Continues below advertisement

সারদাকাণ্ডে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজীব কুমারের বয়ান রেকর্ড করে সিবিআই। কলকাতায় তাঁর বাসভবনের সামনেও পৌঁছে গিয়েছিলেন সিবিআই অফিসাররা, তা নিয়ে সেই সময় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে শিলংয়ে তাঁকে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারপরই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রাজীব কুমার। মঞ্জুর করা হয় আগাম জামিন। হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় CBI। ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর নোটিস ইস্যু করে সর্বোচ্চ আদালত। ৬ বছর পর সোমবার ফের সেই মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। এদিন সারদাকাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়ল CBI. বর্তমান ডিজি-র ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার জন্য তাঁকে অকারণ হেনস্থা করা হচ্ছে বলে সওয়াল করেন রাজীব কুমারের আইনজীবী। তিনি সওয়াল করেন,'আজ পর্যন্ত CBI তলব করেনি। তদন্তে সহযোগিতা করতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন রাজীব কুমার। শর্ত সাপেক্ষে আগাম জামিন মঞ্জুর করা হয়, তা লঙ্ঘন করা হয়নি।  শিলংয়ে তাঁকে ৪৮ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এখন কেন তারা আদালত অবমাননার আবেদন করছে? রাজীব কুমারের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার জন্য।' 

CBI-এর আইনজীবীর সওয়াল

তখন CBI-এর আইনজীবী, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, CBI পশ্চিমবঙ্গে তদন্তের জন্য গিয়েছিল। স্থানীয় পুলিশ, একজন অফিসারকে মারধর করে। কলকাতা পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। CBI অফিসারের বাসভবন ঘেরাও করা হয়। এটি একটি গুরুতর বিষয়। এই মামলার সঙ্গে অবমাননার আবেদনের সম্পর্ক রয়েছে। এরপর CBI-এর আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই বলেন, আপনি কি গত ৬ বছরে একবারও রাজীব কুমারকে ডেকেছিলেন?পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি বলেন, এটি অবাক করার মতো বিষয়, মামলাটি ৬ বছর ধরে বিচারাধীন। গত ৬ বছর ধরে তদন্তের সময় আপনারা তাকে ডাকেননি। ৬ বছরে এটি তালিকাভুক্ত করার জন্য আপনারা কোনও পদক্ষেপ নেননি। এরপর আজ, শুক্রবার শুনানিতে রাজীব কুমারের জামিনের বিরুদ্ধে CBI-এর আবেদন বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট।