সন্দীপ সমাদ্দার, পুরুলিয়া: প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই বাংলার দিকে দিকে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। বিজেপি ও তৃণমূল, দুই শিবিরের সমর্থকরাই বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ শুরু করেছে। এরই মধ্যে প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায়, দল ছাড়লেন পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল নেতা। ভোটের মুখে স্থানীয় নেতার দলত্যাগ ঘিরে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য (West Bengal Election 2026)।
পুরুলিয়ায় তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন (TMC )
পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা হতেই অভিমানে দল ছাড়লেন দলেরই সিনিয়র নেতা দিব্যজ্যোতি প্রসাদ সিংহ দেও। তিনি প্রয়াত বিধায়ক কে. পি. সিং দেওর ছেলে। পুরুলিয়ায় তাঁর অনুগামীর সংখ্যাও অনেক।
প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় ক্ষোভ
পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী ( TMC Candidate )করেছে এমন একজনকে, যিনি গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই পরাজিত হয়েছিলেন। সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাই দল এবার তাঁকে আর প্রার্থী করবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা ছিল স্থানীয় স্তারে। তবে শেষমেষ দল তাঁকেই প্রার্থী করে।সুজয় অনুগামীদের অভিযোগ, সেখানে স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের দাবি ছিল পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করতে হবে, কিন্তু দল তা শোনেনি ।
যোগদানকারী দিব্যজ্যোতি প্রসাদ সিং দেও বলেন, 'তৃণমূল দল আদর্শ নেই । মানুষের জন্য কাজ করে না । সদ্য প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় পুরুলিয়া বিধানসভায় বহিরাগত অন্য বিধানসভা এলাকার ব্যক্তিকে প্রার্থী করা হয়েছে । পুরুলিয়া বিধানসভায় যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করা হয়েছে । তাই তৃণমূল দল ত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগদান করলাম । কংগ্রেস যদি প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে লড়াই হবে এবং পুরুলিয়া বিধানসভায় মানুষের সমর্থন নিয়ে কংগ্রেস জয়ী হবে । '
বিজেপির পক্ষে কি বাড়ছে সুবিধা?
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিকে বিজেপির পক্ষে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, তৃণমূলের অন্দরের এই অসন্তোষ বিজেপি প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে আরও সহজ করে দিতে পারে (Election 2026)।
পার্টি অফিসে এসে কেদে ফেললেন খোকন মিঞা
অন্যদিকে কোচবিহারেও তৃণমূল কংগ্রেসের ঘরে ভাঙন ধরল। তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসের হাত ধরলেন কোচবিহার ২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এবং কিষান ক্ষেত মজুর তৃণমূল কংগ্রেস জেলা সভাপতি, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ অনুগামী বলে পরিচিত খোকন মিঞা। পুরনো দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি। পুরনো নেতা কর্মীদের গুরুত্ব দিচ্ছে না তৃণমূল, কর্পোরেট সংস্থা দল চালাচ্ছে। অভিযোগ দলত্যাগী নেতার।
