কলকাতা: কলকাতায় দুর্যোগে ১২ জনের মৃত্যু। প্রতিবাদে কলেজস্ট্রিট থেকে খোলা হাওয়া সংগঠনের মিছিল। মিছিলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি বলেন, সব মৃত্যুগুলিই হয়েছে, বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে। সেগুলি বাড়িতে নয়, খোলা তারেও নয়। সব পোস্টে (বিদ্যুৎ এর পোস্ট)। সব পোস্ট মেনটেন করে, কলকাতা কর্পোরেশন। তাহলে মেয়রের বিরুদ্ধে কেন এফআইআর কেন করা হবে না ? মেয়রকে গ্রেফতার করা কেন হবে না ? প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। তিনি আরও অভিযোগ তুলে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তার দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি মেঘ ভাঙা বৃষ্টি এবং ১২ জন সহ নাগরিকেক মৃত্যুর পরেও, তিনি পুজো উদ্বোধন থেকে শুরু করে, ..অমানবিক ভূমিকা সেটি পালন করেছেন। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধিক্কার জানাতে, ছিঃ মমতা ছিঃ জানাতে কলকাতাতে, হাজার হাজার কলকাতার নাগরিকরাই নেমেছে। বাইরের কেউ নয়।'
আরও পড়ুন, উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বিপর্যয়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ !
প্রতিপদে দুর্যোগে ১২ জনের মৃত্য়ুর প্রতিবাদে মিছিল করল বিজেপি নেতাদের পরিচালিত সংগঠন 'খোলা হাওয়া'। আর যা নিয়ে সপ্তমে উঠল রাজনীতির সুর। সেখান থেকে ফের ভবানীপুরে তৃণমূলকে হারানোর ডাক দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। হিম্মত থাকলে ভবানীপুরে দাঁড়ান, পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে তৃণমূল। রেড রোডে রাজ্য় সরকারের দুর্গাপুজোর কার্নিভাল।সেদিনই, প্রতিপদে দুর্যোগে ১২ জনের মৃত্য়ুর প্রতিবাদে মিছিল করল বিজেপি নেতাদের পরিচালিত সংগঠন 'খোলা হাওয়া'।আর যা নিয়ে সপ্তমে উঠল রাজনীতির সুর। বিজেপির পতাকা ছাড়া মিছিল হলেও সেখান থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে একেবারে চাঁছাছোলা ভাষায় রাজনৈতিক আক্রমণে নামলেন শুভেন্দু অধিকারী। ফের ভবানীপুরে হারানোর ডাক দিলেন তিনি।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হারাতেই হবে। আমি করে দেখিয়েছি নন্দীগ্রামে। আপনাকেও করে দেখাতে হবে। নন্দীগ্রামের থেকেও বেশি ভোটে ওকে ভবানীপুরে হারাব। ২টো ভোট হবে। এই অক্টোবর মাসে SIR। সব মৃত নাম কাটাবেন। না কাটলে খবর দেবেন। SIR সেমিফাইনাল। ১ কোটি ভোটারের নাম বাদ দিতে হবে। ভুয়ো ভোটার। তারপরে ফাইনাল মমতা কুপোকাত। আর যেদিন হারবে ওর ভাইপোর বাড়ি থেকে ইটগুলো খুলে খুলে আনবেন আপনারা। অপরদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর যদি হিম্মত থাকে, যে কথা ঘোষণা করেছে যে ও ভবানীপুরে দাঁড়াবে। যদি এক বাপের ব্য়াটা হয়ে থাকে ভবানীপুরে দাঁড়াক। ভবানীপুরে দাঁড়াক যেন না পালায় শুভেন্দু অধিকারী। SIR...লজ্জা করে না ভোট চুরির নতুন অস্ত্র। নির্বাচন কমিশনকে ম্য়ানিপুলেট করে ভোটে জেতা যাবে না। ২০২১ প্রমাণ করেছে। ২০২৪ প্রমাণ করেছে। ২০২৬ আবার প্রমাণ দেবে।
এদিনের মিছিলে অংশ নেন ব্রিটিশ নাগরিক বাঙালি চিকিৎসক রজতশুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। মার্চ মাসে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা চলাকালীন বিক্ষোভ দেখিয়ে শিরোনামে আসেন। এরপর রাজ্য় মে়ডিক্য়াল কাউন্সিলের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্থার অভিযোগও তোলেন। রবিবার খোলা হাওয়ার প্রতিবাদ মঞ্চে দেখা যায় তাঁকে। ব্রিটিশ নাগরিক বাঙালি চিকিৎসক রজতশুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই মিছিলটা ধিক্কার মিছিল। কারণ এইভাবে লোকজন মারা যাচ্ছে। জলের নিকাশী ব্যবস্থা নেই। বর্ষা হলে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। কুকুর-বেড়ালের মতো মৃত্যু হচ্ছে। আমাদের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করা হচ্ছে। তাই সেটার জন্য ধিক্কার মিছিলে আমি এসেছি।
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ...ওঁর নিজের বিরুদ্ধেই তো অভিযোগ রয়েছে। উনি চিকিৎসারত অবস্থায় উনি রোগী অবহেলার অভিযোগ ছিলেন। বিজেপির জার্সি পরে সরাসরি নামুন না। এটা খোলা হাওয়া, বন্ধ হওয়া এসব নাটক কেন? ঘোমটার আড়ালে নয়, ঘোমটাটা খুলে নাচুক।' ২২ সেপ্টেম্বর, মুষলধারে বৃষ্টিতে কলকাতা এবং জেলায়, জলে ডুবে, বিদ্য়ুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১২ জন।তারই প্রতিবাদে রবিবার মিছিলের ডাক দেয় বিজেপি নেতাদের দ্বারা পরিচালিত সংগঠন 'খোলা হাওয়া'।বিজেপির অভিযোগ ছিল, পুজো কার্নিভালের দিনে মিছিলের ডাক দেওয়ায় অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এরপরই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা। এরপর শর্তসাপেক্ষে এই মিছিলের অনুমতি দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।